কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে জঙ্গি হামলায় কমপক্ষে ৪৩ জন নিহত

এডিএফ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে কঙ্গোর সামরিক বাহিনী। ফাইল ছবি
আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত অ্যালাইড ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এডিএফ) বিদ্রোহীরা অন্তত ৪৩ জনকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা এপির বরাতে এ খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
কঙ্গোর সামরিক বাহিনী বিবৃতিতে স্বীকার করেছে, হামলায় ৪৩ জন গ্রামবাসী নিহত হন।
অন্যদিকে স্থানীয় কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা অন্তত ৫৬ জন, বেশ কয়েকজন নিখোঁজ এবং অন্তত দুজনকে জিম্মি করা হয়েছে।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি স্যামুয়েল বানাপিয়া ফোনে নিশ্চিত করেছেন, এডিএফ যোদ্ধারা গত বুধবার রাতে বাফওয়াকোয়া গ্রামে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করেছে। তারা গ্রামের বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।
উগান্ডার এই জঙ্গিগোষ্ঠীটি দুদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।
দেশটির পূর্বাঞ্চলে অন্য বেশ কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াইয়ের পাশাপাশি কঙ্গোর সেনাবাহিনী এডিএফকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জুলস নগোঙ্গো ফোনে এপিকে বলেছেন, এডিএফ সেনাবাহিনী এবং এর সব সহযোগীদের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ এড়িয়ে চলে। এ কারণেই তারা এমনভাবে জনগণের ওপর হামলা চালায় যা শান্তি প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করে।
কঙ্গোতে এডিএফ যোদ্ধাদের সংখ্যা সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। এই অঞ্চলে তাদের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। তারা নিয়মিত বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালায়।
গোষ্ঠীটির প্রতিষ্ঠা ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে উগান্ডায় এবং ২০১৯ সালে এটি ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যুক্ত হয়।
কঙ্গোর জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ মুসলিম এবং তাদের অধিকাংশই পূর্বাঞ্চলে বাস করেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উগান্ডার সীমান্তবর্তী এলাকায় এডিএফের হামলা বেড়ে গেছে। পূর্ব কঙ্গোর প্রধান শহর গোমা ও পার্শ্ববর্তী ইতুরি প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটছে। গত বছর এডিএফ একটি পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৬৬ জনকে হত্যা এবং আরও কয়েকজনকে অপহরণ করে।

