রোবট ভিক্ষু এনে দক্ষিণ কোরিয়ার চমক!

‘গাবি’ নামের ১৩০ সেন্টিমিটার উচ্চতার এই রোবটটিকে পরানো হয় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ঐতিহ্যবাহী ধূসর ও বাদামী পোশাক। ছবি : সংগৃহীত
আধ্যাত্মিকতা ও প্রযুক্তির এক অনন্য চমক দেখল বিশ্ব। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের ঐতিহ্যবাহী জোগ্যসা মন্দিরে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষেক হলো দেশটির প্রথম হিউম্যানয়েড রোবট ভিক্ষু।
বুদ্ধের জন্মদিন উদযাপনের আগে গতকাল ৬ মে রোবট সন্ন্যাসীর এই সংযোজনকে দেখা হচ্ছে বৌদ্ধধর্ম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক বিরল মেলবন্ধন হিসেবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘গাবি’ নামের ১৩০ সেন্টিমিটার উচ্চতার এই রোবটটিকে পরানো হয় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ঐতিহ্যবাহী ধূসর ও বাদামী পোশাক। একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে তাকে হাজির করা হয় জ্যেষ্ঠ সন্ন্যাসীদের সামনে।
সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়, সে কি বৌদ্ধধর্মের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করবে? জবাবে রোবটটি বলে ‘হ্যাঁ, আমি নিজেকে উৎসর্গ করব’।
অনুষ্ঠানে সন্ন্যাসীরা গাবির গলায় পরিয়ে দেন ১০৮টি দানার একটি মালা। এসময় রোবটটি হাত জোড় করে মাথা নত করে প্রদর্শন করে সম্মান।
বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের প্রথা অনুযায়ী, ধূপের মাধ্যমে আগুনের ছোঁয়া দেওয়ার পরিবর্তে রোবটটির গায়ে লাগানো হয় একটি প্রতীকী স্টিকার।
জোগ্যসার সাংস্কৃতিক বিষয়ক প্রধান ভেন. সেয়ং ওন সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপকে জানান, ‘গাবি’ নামটি করুণা বা দয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি কোরীয় শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে। নামটি উচ্চারণেও সহজ।
সেয়ং ওন বলেছেন, এটি মানুষ ও রোবটের সহাবস্থান খোঁজার একটি প্রাথমিক প্রচেষ্টা। বর্তমান সময়ে বিষয়টি কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সমাজ কীভাবে খাপ খাইয়ে নেবে, তা নির্ধারণে এই উদ্যোগ করবে সহায়তা।




