শি জিনপিং
বৈশ্বিক অস্থিরতায় ‘মূল্যবান’ চীন-রাশিয়া স্থিতিশীল সম্পর্ক

শি জিনপিং ও সের্গেই ল্যাভরভ
একের পর এক পরিবর্তন ও বিশৃঙ্খলায় জর্জরিত বিশ্ব। এমন প্রেক্ষাপটে চীন-রাশিয়া সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বিশেষভাবে ‘মূল্যবান’। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলছেন এমনটাই।
বেইজিংয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে এক বৈঠকে শি জানান, এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যেকার মৈত্রী চুক্তির শক্তিশালী প্রাণশক্তি ও দৃষ্টান্তমূলক তাৎপর্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে আরও বেশি।
শি বলছেন, উভয় দেশের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষা এবং গ্লোবাল সাউথ দেশগুলোর ঐক্য সুরক্ষিত করার জন্য চীন ও রাশিয়াকে কাজে লাগাতে হবে আরও ঘনিষ্ঠ ও শক্তিশালী কৌশলগত সহযোগিতা।
তিনি দুই দেশকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান শক্তি ও স্থায়ী সদস্য হিসেবে তাদের দায়িত্ব ও অঙ্গীকার তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ সময় শি জিনপিং তুলে ধরেছেন দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব। তবে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে তিনি কোন বিশৃঙ্খলা ও পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন, তা নির্দিষ্ট করেননি। তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইরান যুদ্ধ কতদিন চলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও রয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও গভীর হয়েছে চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ক, বিশেষ করে ২০২২ সালের শুরুতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর। ইউক্রেন যুদ্ধে ট্রাম্পের অদ্ভুত দৃষ্টিভঙ্গি এই সম্পর্কে একটি নতুন মোড় এনেছে, কিন্তু মনে হচ্ছে না যে এটি সম্পর্কে এনেছে মৌলিক কোনো পরিবর্তন।
সেপ্টেম্বরে পুতিন যখন চীন সফরে আসেন, তখন শি জিনপিং তাকে স্বাগত জানান ‘পুরনো বন্ধু’ হিসেবে। পুতিনও শি জিনপিংকে সম্বোধন করেন ‘প্রিয় বন্ধু’ বলে।
বুধবার শি বললেন, তার ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে হওয়া ঐকমত্য উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি কৌশলগত যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সমন্বয় জোরদার করার আহ্বান জানান।
তিনি বেইজিং ও মস্কোর মধ্যকার ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং ‘উচ্চতর অবস্থানে পৌঁছাতে, আরও অটল থাকতে ও আরও দূর যাওয়ার’ আহ্বান জানান।
এ সময় ল্যাভরভ বলেছেন, একটি জটিল বাহ্যিক পরিবেশে রুশ-চীনা সম্পর্ক দেখিয়েছে নমনীয়তা। তিনি উল্লেখ করেন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতায় ভালো গতি এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের কথা।
রাশিয়া আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখতে, সম্পর্ককে আরও বৃহত্তর উন্নয়নে এগিয়ে নিতে এবং বিশ্বশান্তিতে বৃহত্তর অবদান রাখতে চীনের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক বলেও জানান ল্যাভরভ।
ল্যাভরভ তার চীনা প্রতিপক্ষ ওয়াং ইর আমন্ত্রণে মঙ্গলবার দুই দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন।



