মিয়ানমারের ‘প্রেসিডেন্ট হতে’ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের পদ ছাড়লেন মিন

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং নেপিডোতে এক অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত কমান্ডার-ইন-চিফ জেনারেল ইয়ে উইন উ-এর হাতে একটি পতাকা তুলে দিচ্ছেন
মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মিন অং হ্লাইং পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার তিনি পদত্যাগ করেন। খবর রয়টার্সের।
মিন ২০২১ সালে মিয়ানমারের সেনা অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশ মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীকে ২০১১ সাল থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন মিন। সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে আইনপ্রণেতারা মিনকে দুইজন ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর একজন হিসেবে মনোনীত করেন। দেশটির উচ্চকক্ষও একজন ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনীত করবে।
পরবর্তীতে দুই কক্ষ এই তিনজনের মধ্য থেকে প্রেসিডেন্ট বেছে নেবে। এখন পর্যন্ত এ ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সংসদের কার্যক্রমের সরাসরি সম্প্রচার অনুযায়ী, সামরিক-সমর্থিত একটি দলের আইনপ্রণেতা কিয়াও কিয়াও হতে সংসদের নিম্নকক্ষে দাঁড়িয়ে বলেছেন, সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংকে উপ-রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করা হলো।
ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে তীব্র সংঘাতের মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি বিতর্কিত নির্বাচনের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই নির্বাচনে সামরিক বাহিনী-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি জয়লাভ করে। যদিও এই নির্বাচনকে জাতিসংঘ এবং অনেক পশ্চিমা দেশ প্রহসন বলে ব্যাপকভাবে উপহাস করেছে।
রাজধানীর নেপিদোতে পৃথক এক অনুষ্ঠানে মিন অং হ্লাইং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের পদ ইয়ে উইন উ-র কাছে হস্তান্তর করেন।
অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তা উইন দায়িত্ব পাওয়ার পর বলেছেন, আমি জনগণ, সেনাবাহিনী এবং দেশের স্বার্থে কাজ করে যাব।
উইন ২০২০ সালে মিয়ানমারের গোয়েন্দা প্রধান নিযুক্ত হন এবং এ মাসের শুরুতে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে পদোন্নতি পান।
উইন সম্পর্কে বিশ্লেষক অং কিয়াও সো বলেছেন, অল্প সময়ের মধ্যে দুটি বড় পদোন্নতি পাওয়ায় বোঝা যায় তিনি মিন অং হ্লাইংয়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ব্যক্তি।
থাইল্যান্ডভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি–মিয়ানমার মার্চে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, সেনা অভ্যুত্থানের পর তিনি জেনারেলের পদে থেকে সামরিক প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তার যুদ্ধক্ষেত্র ও প্রশাসনিক—দুই ধরনের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম।
মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলের একটি পরিবারে জন্ম নেওয়া মিন অং হ্লাইং সেনাবাহিনীতে ঢোকার আগে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। পরে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। এরপর ধাপে ধাপে উন্নতি হয় তাদের। তিনি ১৫ বছর আগে এই দিনে সামরিক প্রধান হন।
অভিযোগ রয়েছে, কঠোর ও নির্মম হিসেবে পরিচিত এই নেতা ক্ষমতা ধরে রাখতে বিশ্বস্তদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেন এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমন করেন।
দীর্ঘদিন ধরেই তার ইচ্ছা ছিল দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার। যদিও চলমান গৃহযুদ্ধ সেনাবাহিনীর প্রভাব কমিয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুরু থেকেই তার লক্ষ্য ছিল। এখন তিনি সামরিক শাসক থেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশ শাসন করতে চাইছেন।

