নেপালের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে বালেন্দ্র শাহর দল

ফাইল ছবি
নেপালের সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক ভোট গণনায় র্যাপার থেকে রাজনৈতিক নেতা বনে যাওয়া বালেন্দ্র শাহর দল বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেক বেশি ভোট পাচ্ছেন।
বালেন্দ্রর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে নেপালের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলিও রয়েছেন। গত বছর জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের প্রবল আন্দোলনের মুখে অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই নেপালের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আধিপত্য বিস্তার করেছেন। তিনি দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। বালেন্দ্র কাঠমান্ডু নগরের সাবেক মেয়র ছিলেন।
আজ শুক্রবার বিকেলে কাঠমাণ্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র তিন বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বালেন্দ্র শাহর মধ্যপন্থী দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ ৯৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
আর ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপার নেতৃত্বাধীন নেপালের প্রাচীনতম দল ‘নেপালি কংগ্রেস’ ১০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির দল ‘কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল’ (ইউএমএল) মাত্র ৭টি আসনে এগিয়ে আছে।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, আজ শুক্রবার সন্ধ্যা বা শনিবারের মধ্যে নির্বাচনের ফলাফল পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যাবে। নেপালের সংসদের নিম্নকক্ষের মোট ২৭৫টি আসনের মধ্যে ১৬৫টি আসনে সরাসরি নির্বাচন হচ্ছে। এখন সেগুলোরই গণনা চলছে। সংসদের বাকি ১১০ আসন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্ধারিত হবে।
বালেন্দ্র নির্বাচনী প্রচারের সময় বিশাল জনসমাগম করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সরাসরি জনসংযোগের মাধ্যমে পরিবর্তনপ্রত্যাশী তরুণ ভোটারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রেখেছেন। এমনকি ভারত সীমান্তবর্তী ঝাপা-৫ আসনে অলির (৭৪) নিজের ঘাঁটিতেও তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন শাহ।
চীন ও ভারতের মধ্যে অবস্থিত ৩ কোটি মানুষের এই দেশে কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। এর ফলে দেশটির কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেকারত্ব বেড়েছে, যার মূলে রয়েছে কাঠামোগত সমস্যা ও ব্যাপক দুর্নীতি।
দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গত সেপ্টেম্বরে। রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার তরুণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার জেরে শুরু হওয়া সেই বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। ব্যাপক সংঘর্ষ ও প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

