আগামীর সময়

ব্রিটেনকে হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে সহায়তা দিলে পরিণতি ভোগ করতে হবে

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে সহায়তা দিলে পরিণতি ভোগ করতে হবে

সংগৃহীত ছবি

ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় যুক্তরাষ্ট্র যদি ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে, তবে তা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসনে অংশগ্রহণ’ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এ মন্তব্য করেছেন বলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। তবে ফোনালাপটি ঠিক কবে হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়৷

ফোনালাপে আরাঘচি বলেছেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ নিশ্চিতভাবেই আগ্রাসনে অংশগ্রহণ হিসেবে গণ্য হবে এবং দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে তা লিপিবদ্ধ থাকবে।’

আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসন নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন সতর্ক করেন, এ যুদ্ধে যেকোনো ধরনের সমর্থন উত্তেজনা আরও বাড়াবে।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা চলাকালেই ইরান দ্বিতীয়বারের মতো সামরিক হামলার শিকার হয়েছে।

ইরানি এই মন্ত্রী দাবি করেন, এসব হামলায় ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং শতাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক নীতি ও বিধির লঙ্ঘন।

যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ায় যুক্তরাজ্যের সমালোচনা করে আরাঘচি বলেছেন, ‘ইরান নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় অন্তর্নিহিত অধিকার সংরক্ষণ করে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই অবৈধ যুদ্ধে আগ্রাসনকারীদের যেকোনো সহায়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।’ একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে, যার মধ্যে ইরানবিরোধী কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারী ‘সন্ত্রাসী’ টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য প্ল্যাটফর্ম প্রদানও অন্তর্ভুক্ত।

দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ‘বিপজ্জনক ও বেপরোয়া’ হামলার নিন্দা না জানিয়ে বরং ইরানের পাল্টা হামলার সমালোচনা করায় যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশের সমালোচনা করেন আরাঘচি।

জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন, ইরান আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্বকে সম্মান করেছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, ওই দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকে ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

তার মতে, ‘মধ্যপ্রাচ্য ও হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে হলে আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। যেকোনো যুদ্ধবিরতির সঙ্গে এমন নিশ্চয়তা থাকতে হবে, যাতে এ ধরনের আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’

এদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার উত্তেজনা কমিয়ে যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি জানান, চলমান সংঘাতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উভয় পর্যায়েই উদ্বেগজনক।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে ইরানে বিমান হামলা শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এর আগে আট মাস আগে একই ধরনের হামলা চালানো হয়েছিল। এর জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চল এবং বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

    শেয়ার করুন: