ভূমধ্যসাগরে নৌযান ডুবে অন্তত ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ

ছবি : গেটি ইমেজ
লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে নৌযান ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন অন্তত ৭০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। তাদের সবাই নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা।
লিবিয়ার তাজৌরা বন্দর থেকে যাত্রা করার কয়েক ঘণ্টা পরেই নৌযানটি ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে উল্টে পানিতে ডুবে যায় বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম ডেইলি মেইল।
সতর্কবার্তা পাওয়ার পর জার্মান উদ্ধারকারী সংস্থা সি-ওয়াচের পাঠানো বিমান শনাক্ত করে সমুদ্রে উল্টে যাওয়া একটি কাঠের নৌকা। ওই নৌকার ভাঙা কাঠামো আঁকড়ে ধরে ছিলেন প্রায় ১৫ জন মানুষ। আরও কয়েকজনকে পানিতে ভাসতে দেখা যায়।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে জানা যায়, লিবিয়ার উপকূলের কাছে উল্টে যাওয়া নৌকার ওপর বসেছিলেন প্রায় ১২ জন। আর অন্যরা চেষ্টা করছেন পানি থেকে উপরে ওঠার।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, ইতালির একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ও লাইবেরিয়া থেকে পাঠানো আরেকটি জাহাজের সমন্বয়ে পরিচালিত উদ্ধার অভিযানে জীবিত উদ্ধার করা হয় ৩২ জনকে। দুটি মৃতদেহও পাওয়া যায় উদ্ধারকারী জাহাজগুলো থেকে।
বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে এক শিশু। তাদের ইতালির উপকূলরক্ষী বাহিনী ল্যাম্পেডুসা দ্বীপে নিয়ে গেছে, যা ইউরোপে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা সবাই পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিশরের নাগরিক।
যারা বেঁচে ফিরেছেন, তারা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, জাহাজটিতে লোক ছিল ১০০ জনেরও বেশি। তবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার আশঙ্কা, এই সংখ্যা হতে পারে ১২০ জন পর্যন্ত। যদি এই সংখ্যা নিশ্চিত হয়, তবে এটি হবে ইতিহাসের অন্যতম অভিবাসী পারাপারের মর্মান্তিক ঘটনা।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র ফিলিপ্পো উঙ্গারো বলেছেন, অভিবাসীরা যে নৌকায় ছিলেন, তা ‘ভূমধ্যসাগর পার হওয়ার জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত।



