ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাজারে ঢুকতে যুক্তরাজ্যের গুনতে হবে ১০০ কোটি পাউন্ড

ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাজারে আরও গভীর প্রবেশাধিকার চাইলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাজেটে যুক্তরাজ্যকে বছরে প্রায় ১০০ কোটি পাউন্ড দিতে হবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে এমন বার্তা দিয়েছে ইইউ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রেক্সিটের পর এটি হবে ইইউ বাজেটে যুক্তরাজ্যের প্রথম সরাসরি আর্থিক অবদান। ইউরোপীয় দেশগুলোর সবচেয়ে বড় এই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে স্টারমারের পরিকল্পিত সম্পর্ক পুনর্গঠনের আলোচনায় বিষয়টি বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
দ্য টাইমস জানিয়েছে, ইইউর আলোচকরা আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সংযুক্তির শর্ত হিসেবে এই অর্থ প্রদানের কথা তুলেছেন। প্রস্তাবিত অঙ্কটি সুইজারল্যান্ডের বার্ষিক অবদানের মডেল ধরে নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে যুক্তরাজ্যের বড় অর্থনীতির আকার বিবেচনায় তা বাড়ানো হয়েছে।
এক জ্যেষ্ঠ ইউরোপীয় কূটনীতিক পত্রিকাটিকে বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্য যদি আরও সংযুক্তি চায়, তাহলে তাদের ‘পে টু প্লে’ করতে হবে। এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই।’
ইইউ সুইজারল্যান্ডের মতো একটি ব্যবস্থার পক্ষে, যেখানে যুক্তরাজ্য ইইউর এমন তহবিলে অর্থ দেবে, যা ব্লকের ভেতরে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে ব্যবহৃত হয়। আগামী গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্য-ইইউ সম্মেলনে বিষয়টি নীতিগতভাবে উঠতে পারে। এরপর বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে।
তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর নির্দিষ্ট অঙ্ক নিশ্চিত করেনি। সরকার জানিয়েছে, চলমান আলোচনার বিষয়ে তারা মন্তব্য করবে না। তবে স্টারমার বলেছেন, ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বার্থে।
গত মার্চে ইউরোপীয় নেতারা একমত হন, ব্রেক্সিটের পর প্রথমবারের মতো ইইউর বিদ্যুতের একক বাজারে অংশ নিতে চাইলে যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় স্ট্রাকচারাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডসে অর্থ দিতে হবে। ইইউ নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে, যুক্তরাজ্য যেন একক বাজারের শুধু সুবিধাজনক অংশগুলো বেছে না নেয়।
এই প্রস্তাব ব্রেক্সিটপন্থীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল অভিযোগ করেছেন, স্টারমার ব্রেক্সিট খুলে ফেলছেন এবং ব্রিটিশ করদাতাদের ওপর আরেকটি অগণতান্ত্রিক আঘাতের পরিকল্পনা করছেন।
তিনি বলেছেন, ‘আবারও এই দুর্বল প্রধানমন্ত্রী আলোচনার টেবিলে যান, খালি হাতে ফেরেন, আর তার ভয়াবহ সিদ্ধান্তের কারণে চাপের মুখে থাকা করদাতাদের পকেট কাটা হয়।
রিফর্ম ইউকে ও কনজারভেটিভ পার্টির নেতারা অভিযোগ করেছেন, সরকার জনসমর্থন ছাড়াই গোপনে ইইউর কিছু ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চাইছে। তাঁদের ভাষায়, এটি ২০১৬ সালের গণভোটের ফলাফলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
তবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সমর্থকেরা বলছেন, খাদ্য, জ্বালানি ও সেবা খাতে বাণিজ্য বাধা কমলে অর্থনৈতিক লাভ এই অর্থপ্রদানকে ছাপিয়ে যেতে পারে। সমালোচকেরা বলছেন, এই অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে, সে বিষয়ে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। একই সঙ্গে যেসব নিয়ম মানতে হবে, সেগুলো তৈরিতে যুক্তরাজ্যের প্রভাবও সীমিত থাকবে।
ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক উষ্ণ করার বৃহত্তর উদ্যোগের মধ্যেই এই বিতর্ক সামনে এল। এর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের জন্য ইইউর ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ প্যাকেজে যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা।
দ্য অবজারভার–এ লেখা এক নিবন্ধে স্টারমার বলেন, ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির ক্ষতি করেছে।
তিনি লিখেছেন, এটি আমাদের অর্থনীতির ক্ষতি করেছে, আর জাতীয় স্বার্থ কোথায়, তা নিয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই। প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, জ্বালানি এবং অর্থনীতিতে একটি শক্তিশালী ইউরোপের কেন্দ্রে থাকতে হবে ব্রিটেনকে।
স্টারমার ইইউ কাস্টমস ইউনিয়নে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তার যুক্তি, ব্রেক্সিটের পর অনেক কিছু বদলে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যচুক্তিও এমন কোনো ব্যবস্থায় প্রভাবিত হতে পারে। তবে তিনি বলেছেন, একক বাজার সহযোগিতায় যুক্তরাজ্য আরও এগোতে পারে।
ইউক্রেন ঋণ পরিকল্পনার আওতায় ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো চুক্তি পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। এর বিনিময়ে যুক্তরাজ্যকে সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত আর্থিক অবদান দিতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অর্থ ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাজ্যের নির্ধারিত ৩ বিলিয়ন পাউন্ড সহায়তা প্যাকেজ থেকে আসতে পারে।



