জাহাজে হান্টাভাইরাস, ৩ যাত্রী সরিয়ে নেওয়ার পর গন্তব্য স্পেন

ছবি: রয়টার্স
প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত হয়ে কেপ ভার্দের উপকূলে কয়েক দিন ধরে আটকে থাকা একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরী থেকে আজ বুধবার তিনজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর অসুস্থ ছিলেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
প্রায় ১৫০ আরোহী থাকা এমভি হন্ডিয়াস পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাবে বলে জানিয়েছে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস। এ পর্যন্ত এই প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের।
দক্ষিণ আফ্রিকা নিশ্চিত করেছে, আক্রান্তদের মধ্যে অ্যান্ডিয়ান ধরনের ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে, যা বিরল ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, সাধারণ জনগণের জন্য ঝুঁকি কম এবং তারা জোর দিয়ে বলেছে, এখনো পরিস্থিতি একই রয়েছে।
সুইস সরকার জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডে ফিরে যাওয়া হন্ডিয়াসের এক যাত্রী হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং জুরিখে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা জানিয়েছে, সাধারণ জনগণের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস এক্সে এক পোস্টে বলেছেন, ‘হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহভাজন তিন রোগীকে জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তারা চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন নেদারল্যান্ডসে।’
ডাচ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরিয়ে নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ডাচ নাগরিক, একজন জার্মান এবং একজন ব্রিটিশ রয়েছেন। তাদের ইউরোপের বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে, তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানায়নি তারা।
ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস জানিয়েছে, সরিয়ে নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের তীব্র উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তৃতীয় ব্যক্তি ২ মে জাহাজে মারা যাওয়া সেই জার্মান যাত্রীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ডাচ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্ভবত ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ওই ব্যক্তি।
জাহাজে থাকা এক ডাচ দম্পতিও মারা গেছেন আর দক্ষিণ আফ্রিকায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন একজন ব্রিটিশ নাগরিক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সুইস আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার পর হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটজনে, যাদের মধ্যে তিনজনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে পরীক্ষাগারে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ এবং রোগের আরও বিস্তার সীমিত রাখতে বিভিন্ন দেশকে সংস্পর্শ শনাক্তকরণ কার্যক্রমে সহায়তা করছে তারা।



