আগামীর সময়

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ

নতুন সিদ্ধান্ত নিল যুক্তরাজ্যসহ প্রভাবশালী ৬ দেশ

নতুন সিদ্ধান্ত নিল যুক্তরাজ্যসহ প্রভাবশালী ৬ দেশ

পারস্য উপসাগরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান।

‘প্রণালিতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগে আমরা অবদান রাখতে প্রস্তুত। প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনায় যুক্ত দেশগুলোর অঙ্গীকারকে আমরা স্বাগত জানাই’—  যৌথ বিবৃতিতে বলেছে দেশগুলো।

তারা ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ‘উপসাগরে নিরস্ত্র বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, তেল ও গ্যাস স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামোয় আঘাত এবং ইরানি বাহিনীর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা দেশগুলো।’

তেহরানকে এসব কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরানকে তাৎক্ষণিকভাবে হুমকি, মাইন পাতা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং বাণিজ্যিক নৌ চলাচল ব্যাহত করার সব প্রচেষ্টা বন্ধ করতে হবে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮১৭ নম্বর প্রস্তাব মেনে চলতে হবে।’

ইরানের এসব পদক্ষেপের প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়বে, ‘বিশেষ করে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে—উল্লেখ করেন দেশগুলোর নেতা।

সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক নীতি, যা জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদেও অন্তর্ভুক্ত। আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে তেল ও গ্যাস স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার বিরুদ্ধে ‘তাৎক্ষণিক ও সর্বাত্মক স্থগিতাদেশ’ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

জ্বালানি নিরাপত্তার প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার কৌশলগত তেল মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়, বাজার স্থিতিশীল রাখতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমরা অন্যান্য পদক্ষেপ নেব, যার মধ্যে উৎপাদন বাড়াতে কিছু উৎপাদনকারী দেশের সঙ্গে কাজ করা অন্তর্ভুক্ত হবে— উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এবং বৈশ্বিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে প্রণালিটি অধিকাংশ জাহাজের জন্য কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেলের দামও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৩ দশমিক ৫৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের দিনের ১০৭ দশমিক ৩৮ ডলারের তুলনায় ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি৷




    শেয়ার করুন: