যুক্তরাজ্যে চলছে স্থানীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ

স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে বৃহস্পতিবার সকালে সস্ত্রীক কেন্দ্রীয় লন্ডনের একটি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার
যুক্তরাজ্যে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। ২০২৪ সালে ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে এটিকে।
আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের ভোটাররা তাদের নিজ নিজ পার্লামেন্টের সব আসনে প্রতিনিধি বেছে নিচ্ছেন। আর ইংল্যান্ডে ১৩৬টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রায় ৫ হাজার কাউন্সিল আসন এবং ৬টি মেয়র পদে ভোট হচ্ছে।
স্থানীয় নির্বাচনে সাধারণত আবর্জনা সংগ্রহ, দেয়াললিখন বা সড়কের খানাখন্দের মতো বিষয় প্রাধান্য পায়। তবে আজ বৃহস্পতিবারের ভোটকে প্রধানমন্ত্রীর ওপর গণরায় হিসেবে তুলে ধরেছেন স্টারমারের বিরোধীরা।
ইংল্যান্ডে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কাউন্সিল আসন ধরে রাখতে লড়ছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। বড় ধরনের পরাজয় হলে ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশের দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে স্টারমারকে সরাতে দলীয় এমপিদের চাপ নতুন করে বাড়তে পারে।
তাৎক্ষণিকভাবে টিকে গেলেও অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ২০২৯ সালের মধ্যে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে তিনি লেবারকে নেতৃত্ব দেবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর একের পর এক ভুল পদক্ষেপে স্টারমারের জনপ্রিয়তা কমেছে। তার সরকার প্রতিশ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আনতে, সরকারি সেবা মেরামত করতে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট কমাতে হিমশিম খাচ্ছে। ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এই সংকট আরও বাড়িয়েছে।
জরিপ সংস্থা মোর ইন কমনের লুক ট্রাইল বলেছেন, এই নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে লেবার ও কনজারভেটিভদের দখলে থাকা ‘প্রচলিত দুদলের ব্যবস্থার সম্পূর্ণ ভাঙন’ ঘটাতে পারে।
নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে উত্তর ইংল্যান্ডে লেবারের পুরনো ‘শ্রমজীবী ঘাঁটি’ এবং লন্ডনের প্রান্তিক এলাকায় অগ্রগতি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলটি অভিবাসনবিরোধী বার্তা নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে। অন্যদিকে গ্রিন পার্টি শহরাঞ্চল ও বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে কয়েকশ আসন জিততে পারে।
প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টিও আসন হারাতে পারে, আর মধ্যপন্থী লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা কিছু আসনে সুবিধা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে শেষ বার্তায় স্টারমার কনজারভেটিভদের নাম উল্লেখ করেননি। বরং ভোটকে তিনি লেবারের অধীনে ‘অগ্রগতি ও ভালো ভবিষ্যৎ’ এবং রিফর্মের ‘ক্ষোভ ও বিভাজন’ কিংবা গ্রিনদের ‘ফাঁকা প্রতিশ্রুতির’ মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেন।
নির্বাচনের আগের দিন ফারাজ বলেছেন, রিফর্ম ভালো ফল করলে স্টারমার ‘গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বিদায়’ নেবেন।
স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসেও অগ্রগতি চায় রিফর্ম। তবে এডিনবরায় স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি এবং কার্ডিফে মধ্য-বামপন্থী দল প্লেইড কামরি বড় শক্তি হিসেবেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ভোটের কিছু ফল স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার রাতেই আসতে পারে। তবে বেশির ভাগ ফল শুক্রবার বিকালের দিকে ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে৷



