হান্টাভাইরাস কবলিত জাহাজকে স্পেনে নোঙর করার অনুমতি

আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসতে থাকা হান্টাভাইরাস কবলিত এমভি হনডিওস জাহাজ। ছবি : আরটিই
আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসতে থাকা হান্টাভাইরাসে প্রাদুর্ভাবযুক্ত বিলাসবহুল ক্রুজ জাহাজ এমভি হনডিওসকে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে নোঙর করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবযুক্ত এই ডাচ প্রমোদতরী ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করবে। বর্তমানে জাহাজটি পশ্চিম আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে উপকূলের কাছে অবস্থান করছে।
বিপজ্জনক এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জাহাজটিতে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও বেশ কয়েকজন অসুস্থ রয়েছেন। জাহাজটিতে ২৩টি দেশের প্রায় ১৫০ জন আরোহী রয়েছেন।
জাহাজটি প্রায় তিন সপ্তাহ আগে আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে অ্যান্টার্কটিকা ও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ হয়ে স্পেনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল।
কেপ ভার্দে কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছে, তাদের কাছে জাহাজটির ১৪৭ যাত্রী ও ক্রুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মতো সক্ষমতা নেই।
মানবিক কারণে স্পেন সরকার জাহাজটিকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে নোঙর করার অনুমতি দিয়েছে। স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জই এখন সবচেয়ে নিকটবর্তী স্থান, যেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। জাহাজটি বন্দরে পৌঁছানোর পর মেডিকেল টিম যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রদান করবে এবং পরে তাদের নিজ নিজ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
জাহাজটির পরিচালনাকারী সংস্থা ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস জানিয়েছে, ২৩টি দেশের প্রায় ১৪৯ জন মানুষ ‘কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থার’ অধীনে জাহাজটিতে অবস্থান করছেন। ব্রিটিশ ক্রু সদস্যটি ছাড়াও জাহাজে আরও ২২ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। এখন পর্যন্ত তিনজন মারা গেছেন, যাদের মধ্যে একজন ৭০ বছর বয়সী ব্যক্তি ও তার স্ত্রী এবং আরেকজন জার্মান নাগরিক রয়েছেন।
জাহাজের চিকিৎসক (ডাচ নাগরিক) এবং আরও দুজন ক্রু সদস্য গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জরুরি চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন। এ ছাড়া একজন ব্রিটিশ নাগরিক বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মলমূত্র বা লালার সংস্পর্শে ছড়ায়। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই জাহাজে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের আশঙ্কাও খতিয়ে দেখছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য এই ভাইরাসের ঝুঁকি বর্তমানে অত্যন্ত কম এবং আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
সূত্র : বিবিসি



