পর্তুগাল সরকারের ‘ফ্যামিলি ডক্টর’ সেবা দিতে অপারগতা প্রকাশ

পর্তুগালের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আনা পাউলা মার্টিন্স। ছবি: সংগৃহীত
পর্তুগালে বসবাসরতদের জন্য এক দুঃসংবাদ দিলেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আনা পাউলা মার্টিন্স। ফ্যামিলি ডক্টর বা পারিবারিক চিকিৎসক সেবা সবার জন্য— এমন প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসল দেশটির সরকার।
২০২৭ সালের মধ্যে সকল নাগরিকের জন্য পারিবারিক ডাক্তার সেবা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেওয়ার পরও অতিরিক্ত জনবল ও ডাক্তার সংকটের কারণে এ সেবা দিতে পারবেন না বলে দুঃখ প্রকাশ করলেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বুধবার ফাতিমা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এই প্রক্রিয়াটিকে ‘অত্যন্ত জটিল চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে বর্ণনা করলেন। বিশেষ করে পর্তুগালে নতুন করে কাজ করতে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়তে থাকায় জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর তৈরি হওয়া বাড়তি চাপই এই ব্যর্থতার প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আনা পাউলা মার্টিন্স সরাসরি স্বীকার করলেন যে, সরকার সবাইকে এই সুবিধার আওতায় আনতে চাইলেও ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে তারা। গত পাঁচ বছরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নাম তালিকাভুক্ত করার হার এতটাই বেড়েছে যে বিদ্যমান চিকিৎসকদের পক্ষে তা সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ওরেন পৌরসভার মেয়র লুইস আলবুকার্কের দেওয়া তথ্যমতে কেবল তার এলাকাতেই প্রায় ১৬ হাজার মানুষ ফ্যামিলি ডক্টরের সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ফাতিমা অঞ্চলেও প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ এখনো কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসকের ছায়া পাচ্ছেন না।
তবে ডাক্তার সংকটের এই চরম মুহূর্তে রোগীদের জন্য ‘বাতা ব্রাঙ্কা’ নামক একটি বিশেষ বিকল্প প্রকল্প চালু রেখেছে সরকার। স্থানীয় স্বাস্থ্য ইউনিট ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে যাদের ফ্যামিলি ডক্টর নেই, তারা অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এছাড়া ‘মডেল বি’ হেলথ ইউনিটগুলোকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে। নির্দিষ্ট সময়ে লক্ষ্য পূরণ না হলেও সবার কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে ২০২৭ সালের ডেডলাইন মিস করার এই ঘোষণা লিসবন থেকে পর্তুগালের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নাগরিকদের মধ্যে নতুন করে উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে।

