তিন দশকের মধ্যে তীব্র চাপে যুক্তরাজ্যের নির্মাণখাত

সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্যের নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো। শিল্প খাতের ওপর নজর রাখা এক জরিপে উঠে এসেছে এমন চিত্র।
নির্মাণ খাতের সর্বশেষ পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্সে দেখা গেছে, কাঁচামাল, জ্বালানি ও শ্রমব্যয়সহ ইনপুট খরচের মূল্যস্ফীতি এপ্রিলে বেড়ে ২০২২ সালের জুনের পর পৌঁছেছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর তখন পণ্যমূল্যে বড় উল্লম্ফন দেখা গিয়েছিল। ১৯৯৭ সালে এই জরিপ শুরু হওয়ার পর এপ্রিলে ক্রয়মূল্য বৃদ্ধির হারও ছিল অন্যতম সর্বোচ্চ।
এপ্রিলে নির্মাণ খাতের পিএমআই সূচক নেমে দাঁড়িয়েছে ৩৯ দশমিক ৭-এ, যা মার্চে ছিল ৪৫ দশমিক ৬। এটি গত নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। ৫০-এর ওপরে সূচক প্রবৃদ্ধি এবং এর নিচে সংকোচন নির্দেশ করে। গত বছরের জানুয়ারির পর এই সূচক আর প্রবৃদ্ধি দেখায়নি।
নির্মাণ খাত যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির অন্যতম বড় খাত। জিডিপির প্রায় ৭ শতাংশ আসে এই খাত থেকে এবং এতে ২০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করেন। লেবার সরকার অবকাঠামো উন্নয়ন জোরদার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ লাখ নতুন বাড়ি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘ব্রিটেনকে আবার নির্মাণে ফেরানোর’ কথা বলেছিল।
তবে গত দুই বছর ধরে দুর্বল চাহিদা, বয়সী শ্রমশক্তি ও বাড়তি ব্যয়ের চাপে ছিল খাতটি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা ও মূল্যবৃদ্ধি বাড়িয়ে এই চাপ আরও তীব্র করেছে।
পিএমআই জরিপ প্রস্তুতকারী এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের অর্থনীতি পরিচালক টিম মুর বলেছেন, ‘এপ্রিলে যুক্তরাজ্যের নির্মাণ খাতে ইনপুট খরচের মূল্যস্ফীতিতে দ্রুত ত্বরান্বিত বৃদ্ধি দেখা গেছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘২০২১ সালের শুরু থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত মহামারি-পরবর্তী ইনপুট দামের উল্লম্ফন বাদ দিলে, সর্বশেষ ক্রয়মূল্য বৃদ্ধি তিন দশকের তথ্য সংগ্রহের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র।’
মুরের মন্তব্য, জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠান এপ্রিলে ব্যয়ভার বেড়েছে বলে জানিয়েছে। তার ভাষায়, এটি প্রধানত সরবরাহকারীদের বাড়তি জ্বালানি ব্যয় গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার কারণে হয়েছে। যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল অবরোধ এবং কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে এসব ব্যয় যুক্ত।
আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বিলম্ব এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে কাঁচামাল আমদানিতে সমস্যার কারণে সরবরাহকারীদের পণ্য পৌঁছানোর সময়ও ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।
নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, শেষ হয়ে যাওয়া প্রকল্পের জায়গায় নতুন কাজ আসছে না। বিক্রয় চুক্তি চূড়ান্ত করতেও বেশি সময় লাগছে। নতুন প্রকল্পের অভাবে কিছু প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে যাওয়া কর্মীদের জায়গায় নতুন নিয়োগ দিচ্ছে না বলে জরিপে উঠে এসেছে।
এই মাসে যুক্তরাজ্যের গৃহনির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্রেস্ট নিকলসন ও বার্কলে উভয়েই মুনাফা সতর্কতা জারি করেছে। তারা ব্যয় বৃদ্ধি ও চাহিদা কমার পেছনে ইরান যুদ্ধকে একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ট্রাভিস পারকিনস গত সপ্তাহে জানায়, বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্যবসা চ্যালেঞ্জিং ছিল। নির্মাণ কার্যক্রম দুর্বল থাকায় তাদের আয় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।



