ইউরোপীয় মিত্রদের নিয়ে ন্যাটোর পরিপূরক নৌজোট গড়ছে ব্রিটেন

সংগৃহীত ছবি
রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় উত্তরাঞ্চলীয় সমুদ্রসীমায় ৯টি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে যৌথ নৌবাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির নৌবাহিনীর প্রধান জানিয়েছেন এ তথ্য।
রয়্যাল নেভির প্রধান ফার্স্ট সি লর্ড জেনারেল স্যার গুইন জেনকিন্স বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট সত্ত্বেও রাশিয়াই যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তার জন্য ‘সবচেয়ে বড় হুমকি’ হিসেবে রয়ে গেছে। বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় চলছে বৈশ্বিক উত্তেজনা।
এক বক্তব্যে জেনকিন্স বলেছেন, জয়েন্ট এক্সপেডিশনারি ফোর্সের (জেইএফ) ১০টি সদস্য দেশ গত সপ্তাহে একটি ‘স্টেটমেন্ট অব ইনটেন্ট’-এ স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে একটি ‘বহুজাতিক সামুদ্রিক বাহিনী’ গঠন করা হবে। ন্যাটোর ‘পরিপূরক’ হিসেবে কাজ করবে এটি।
এই বাহিনীতে যুক্তরাষ্ট্র থাকছে না। ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও লন্ডনের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলায় যুক্তরাজ্যের সক্রিয় অংশগ্রহণ না থাকায় সমালোচনা করেছেন। একপর্যায়ে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরীগুলোকে ‘খেলনা’ বলেও উপহাস করেন তিনি।
জেইএফের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, পাঁচটি নর্ডিক দেশ এবং তিনটি বাল্টিক রাষ্ট্র। এতে সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি হিসেবে রয়েছে যুক্তরাজ্য। এই জোটে যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে কানাডাও।
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাজ্য জানায়, রাশিয়ার গুপ্তচর সাবমেরিনগুলো ব্রিটেনের আশপাশের সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেনকিন্স বলেছেন, ‘গত দুই বছরে আমাদের জলসীমায় রাশিয়ার অনুপ্রবেশ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে।’ তিনি আরও বলেছেন, উত্তরে রাশিয়ার সঙ্গে ‘খোলা সমুদ্রসীমা’ রয়েছে যুক্তরাজ্যের।
নতুন এই নৌবাহিনী প্রয়োজন হলে লন্ডনের উত্তর-পশ্চিমে নর্থউডে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক সদর দপ্তর থেকে পরিচালিত হতে পারে। জেনকিন্স বলেন, এর লক্ষ্য হবে যৌথ প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি নেওয়া, যাতে ‘প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ করা যায়— বাস্তব সক্ষমতা, বাস্তব যুদ্ধ পরিকল্পনা এবং বাস্তব সমন্বয়ের মাধ্যমে।’
ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে রয়্যাল নেভির প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সাইপ্রাসে ব্রিটিশ অ্যাক্রেতিরি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার তিন সপ্তাহের বেশি সময় পর পূর্ব ভূমধ্যসাগরে এইচএমএস ড্রাগন মোতায়েন করা হয়। পরে জাহাজটিকে পানি ও স্যানিটেশন সমস্যার কারণে নিতে হয় ডকে।
এ প্রসঙ্গে জেনকিন্স বললেন, ‘আমরা কি যথেষ্ট প্রস্তুত ছিলাম? আমরা কি এখনই যুদ্ধ করতে পারি, আর যদি পারি, কী দিয়ে?’ তবে তিনি জানান, একটি সমন্বিত পরিকল্পনা রয়েছে নৌবাহিনীর।
নৌবাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধের শুরুতে জাহাজের ঘাটতি দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ সংকট ও আগের সরকারগুলোর জাহাজ নির্মাণ খাতে কাটছাঁটের ফল।
জেনকিন্স আরও জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে ‘মানববিহীন এসকর্ট জাহাজ’, অর্থাৎ বড় আকারের সমুদ্র ড্রোন মোতায়েন করা হবে, যা কম খরচে সামরিক সক্ষমতা বাড়াবে।
এদিকে, রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল পরিবহনকারী তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজ জব্দের হুমকি দিলেও এখনো তা বাস্তবায়ন করেনি যুক্তরাজ্য। যদিও এরই মধ্যে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ।
২৫ মার্চ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও রাশিয়া ডোভার প্রণালি দিয়ে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজগুলোকে সশস্ত্র রণতরী দিয়ে পাহারা দিয়ে নিয়ে গেছে। এর পর থেকে ব্রিটিশ জলসীমা দিয়ে চলাচল করেছে এমন ৯৮টি ট্যাংকার।



