স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের ভোটে ‘সাংবিধানিক ধাক্কা’র মুখে পড়তে পারে যুক্তরাজ্য

সংগৃহীত ছবি
এই সপ্তাহে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের নির্বাচনে যুক্তরাজ্য বড় ধরনের ‘সাংবিধানিক ধাক্কা’র মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) নেতা স্টিফেন ফ্লিন। তার মতে, ফলাফল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার স্কটিশ পার্লামেন্ট হলিরুড এবং ওয়েলসের সেনেডে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফ্লিন বলেছেন, স্কটল্যান্ডে এসএনপি এবং ওয়েলসে প্লাইড কামরি ভালো করলে স্টারমারের নেতৃত্ব বড় সংকটে পড়তে পারে।
স্কাই নিউজকে ফ্লিন বলছেন, ‘আগামী বৃহস্পতিবার এই দ্বীপপুঞ্জে একটি সাংবিধানিক ধাক্কা আসতে যাচ্ছে, আশা করি স্কটল্যান্ডে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি জিতবে, ওয়েলসেও আশা করি প্লাইড কামরি জিতবে।’
ফ্লিনের দাবি, এসএনপি ও প্লাইড কামরি শক্তিশালী ফল করলে লেবার পার্টির নেতা স্টারমার ‘আগামী সপ্তাহের শেষে আর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে থাকবেন না।’
এসএনপি হলিরুডে রেকর্ড টানা পঞ্চম জয়ের লক্ষ্যে লড়ছে। দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চায়, কারণ তাদের মতে, সেটি স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা নিয়ে দ্বিতীয় গণভোটের দাবিকে আরও জোরালো করবে। অন্যদিকে ওয়েলসে ক্ষমতা থেকে লেবারকে সরাতে চাইছে প্লাইড কামরি—যা বিকেন্দ্রীকরণ শুরুর পর প্রথমবার ঘটতে পারে।
নিজেও হলিরুডে প্রার্থী হওয়া ফ্লিন ২০১১ সালে এসএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠ জয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সেই জয়ের পরই ২০১৪ সালে স্বাধীনতা গণভোট হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, ওই জয় স্কটল্যান্ডের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ‘ভেঙে দিয়েছিল৷’
ফ্লিন বলেছেন, ‘ইতিহাস এ ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষেই আছে। তাই আগামী বৃহস্পতিবার যদি আমরা আবার স্কটল্যান্ডের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ভেঙে দিই, তাহলে আমি আশা করব, যেকোনো গণতান্ত্রিক সমাজের মতো স্কটল্যান্ডের জনগণকেও নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।’
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে স্টারমার ও জ্যেষ্ঠ লেবার নেতারা এরই মধ্যে জানিয়েছেন, স্কটল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন গণভোটের দাবি তারা প্রত্যাখ্যান করবেন। তবে ফ্লিনের দাবি, যুক্তরাজ্য সরকার তা আটকে রাখতে ‘পারবে না৷’
তিনি বলেছেন, ‘আপনি আমাকে বলছেন, কিয়ার স্টারমারের ‘না’ বলার কোনো অর্থ আছে? কিয়ার স্টারমার তো আগামী সপ্তাহের শেষে আর দপ্তরেই থাকবেন না।’
ফ্লিন আরও বলেছেন, বৃহস্পতিবারের নির্বাচনের পর স্টারমার ‘হয়তো কয়েক সপ্তাহ টিকে থাকতে পারেন’, তবে যদি কোনোভাবে ক্ষমতায় থাকেন, তাহলে ‘ইউটার্ন নিতে তিনি ভালোবাসেন।’
ফ্লিন বললেন, ‘ওয়েস্টমিনস্টারের (ব্রিটিশ পার্লামেন্ট হাউজ) প্রতিষ্ঠিত রাজনীতি, দুঃখজনক হলেও সত্য, সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে তা বুঝতে প্রস্তুত নয়।’
তিনি আরও বললেন, ‘কারণ তারা স্কটিশ জনগণের জন্য, এমনকি সম্ভাব্যভাবে ওয়েলসের জনগণের জন্যও, এই দ্বীপপুঞ্জে গণতন্ত্র আছে—এ কথা অস্বীকার করে যেতে পারেন না।’
ফ্লিন জানান, এসএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা স্কটল্যান্ডকে ‘স্বাধীনতার মাধ্যমে নতুন সূচনার সুযোগ’ দেবে এবং এই অস্থির বিশ্বে জন সুইনির ‘স্থিতিশীল ও শক্তিশালী নেতৃত্ব’ নিশ্চিত করবে।
যুক্তরাজ্যকে ‘মেরামতের অযোগ্যভাবে ভেঙে পড়া’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফ্লিন উল্লেখ করেন, ‘আমাদের সমাজ ও মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার ক্ষমতা থাকা উচিত। সম্ভাব্যভাবে রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজের নিয়ন্ত্রণে যেতে পারে—এমন ভাঙা ব্রেক্সিট ব্রিটেনের ওপর নির্ভর করে থাকা উচিত নয়।’
তিনি যোগ করেন, ‘স্কটল্যান্ডের সামনে খুব ইতিবাচক ভবিষ্যৎ রয়েছে। তবে তা অর্জন করা সম্ভব শুধু এসএনপিকে ভোট দিলেই।’



