৩২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করল রাশিয়া, সম্মতি জানাল ইউক্রেন

ইউক্রেনীয় নবনিযুক্ত সৈন্যরা প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে
খ্রিষ্টানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব অর্থোডক্স ইস্টার উপলক্ষে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেইন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ৩২ ঘণ্টার একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পক্ষে সম্মতি দিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, কিয়েভও এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার মস্কো সময় বিকেল ৪টা থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হবে বলে এক বিবৃতিতে জানায় ক্রেমলিন। এই যুদ্ধবিরতি রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত তা চলবে। এই সময়টি দুই দেশে পালিত ইস্টার উৎসবকে কেন্দ্র করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, আশা করা হচ্ছেইউক্রেন রুশ ফেডারেশনের উদাহরণ অনুসরণ করবে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে যেকোনো লঙ্ঘন মোকাবিলায় রুশ বাহিনী পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে।
জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন আগেই একই ধরনের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল এবং এবারও তারা সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।
তিনি টেলিগ্রামে লেখেন, ‘ইউক্রেন বারবার বলেছে, আমরা পারস্পরিক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত। আমরা এ বছরের ইস্টার ছুটিতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছি এবং সে অনুযায়ীই কাজ করব।’
জেলেনস্কি আরও লেখেন, মানুষের জন্য প্রয়োজন হুমকিমুক্ত একটি ইস্টার এবং শান্তির দিকে বাস্তব অগ্রগতি। রাশিয়ার এখন সুযোগ আছে ইস্টারের পরও হামলায় না ফেরার।
ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর জানান, রাশিয়ার গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। শত্রুরা প্রায় ৩০ বার তিনটি জেলায় ড্রোন ও আর্টিলারি দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
এই ঘোষিত যুদ্ধবিরতি গত বছরের একই ধরনের সংক্ষিপ্ত বিরতির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেসময় লঙ্ঘনের অভিযোগে উভয় পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করেছিল।
বৃহত্তর কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই এই উদ্যোগ এসেছে। যদিও ওয়াশিংটনের দৃষ্টি এখন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার দিকে সরে গেছে।
কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও মানবিক যোগাযোগ
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, এই ইস্টার যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগে কোনো আলোচনা হয়নি। এটি রাশিয়া–ইউক্রেন–যুক্তরাষ্ট্র ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনার কোনো নতুন সূচনা নয়।
তবে সীমিত বিরতির মধ্যেও মানবিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। মস্কো থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ইউলিয়া শাপোভালোভা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষ আবারও যুদ্ধাহতদের মরদেহ বিনিময় করেছে।
তিনি বলেছেন, মস্কো ১ হাজার ইউক্রেনীয় সৈন্যের মরদেহ কিয়েভকে হস্তান্তর করেছে। বিনিময়ে ৪১ জন রুশ সেনার মরদেহ ফেরত পেয়েছে।
ইউলিয়া শাপোভালোভা জানান, এ বছর এখন পর্যন্ত ৫০০-এর বেশি রুশ সেনার মরদেহ এবং ১ হাজার ৯০০-এর বেশি ইউক্রেনীয় সেনার মরদেহ কিয়েভে ফেরত এসেছে। তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া এই বিনিময় এবং মাঝে মাঝে বন্দি বিনিময়ই দুই পক্ষের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম।
জেলেনস্কি বারবার জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধসহ অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও মস্কো তা বেশিরভাগ সময় প্রত্যাখ্যান করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেছেন, এই বসন্ত–গ্রীষ্মকাল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে বেশ কঠিন হবে। ইউক্রেনের ওপর চাপ আসতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্রেও চাপ থাকবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, আসন্ন মাসগুলো সিদ্ধান্তমূলক হতে পারে এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিস্থিতি কঠিন থাকবে।
সূত্র: আল-জাজিরা



