বারবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বদলানো ঠিক নয়, সতর্কতা জন মেজরের

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার জন মেজর। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে বারবার প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন করা উচিত নয় বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার জন মেজর। তিনি মনে করেন, রাজনীতিকে কখনোই “গেম শো” হিসেবে দেখা উচিত নয় এবং স্বল্পমেয়াদি লাভের বদলে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধানে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভ ও নিউজ নাইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান রাজনীতিকেরা অনেক সময় গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা ও ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকছেন। ফলে স্বাস্থ্যসেবা, পেনশন, বয়স্ক জনগোষ্ঠী ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি বিষয়গুলো উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
১৯৯০ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জন মেজর বলেন, রাজনীতিতে মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো আশা। তার ভাষ্য, মানুষ যদি পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখতে পায়, তাহলে সামগ্রিক পরিবেশও বদলে যেতে পারে। তবে কঠিন বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার অনীহা রাজনীতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত রাজনীতিকদের ভাগ্যের চেয়ে নীতিনির্ধারণের ধারাবাহিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বারবার প্রধানমন্ত্রী বদলানো স্থিতিশীলতা নষ্ট করে এবং কার্যকর নীতির বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, বর্তমান সরকারগুলো অনেক জটিল সমস্যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ছেড়ে দিচ্ছে, যা এখনই সমাধান করা প্রয়োজন।
অর্থনীতি, জনসেবা ব্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও ভালো কিছু রেখে যাওয়া প্রতিটি সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমানে সেই লক্ষ্য পূরণে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে বলে তার দাবি।
রাজনীতিতে জনসেবার মানসিকতা কমে যাওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জন মেজর। তার মতে, আগে বিভিন্ন পেশা ও অভিজ্ঞতার মানুষ রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও এখন সেই বৈচিত্র্য কমে গেছে। তিনি মন্তব্য করেন, মেধাবী মানুষ যদি শুধু অর্থ উপার্জনের দিকেই মনোযোগ দেন এবং জনসেবা এড়িয়ে চলেন, তাহলে তা দেশের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।



