পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন
‘নীল কুঠি’তে কোন ফুল?
- জয়ের আগেই বিজয়ের আবির বিজেপিতে : ফের একবার মসনদে বসতে চলেছেন মমতা

সংগৃহীত ছবি
বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় দফাও শেষ। এখন অপেক্ষা ফলাফলের। আর মাত্র তিন দিন। ৪ মে সেই কাঙ্ক্ষিত দিন। প্রথম ও দ্বিতীয় মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দুই দফার ‘নীল কুঠি’ (নীল বাড়ি বা নবান্ন) দখল লড়াই শুরু হয় ২৩ এপ্রিল। ২৯-এ শেষ। বুধবার শেষবেলা থেকেই শুরু হয়েছে বুথফেরত জরিপ। এরপর থেকেই আত্মবিশ্বাসী হয় উঠেছে বিজেপি। চার রাস্তার গেরুয়া শিবিরগুলোতে বিজয়ের পদধ্বনি। বেশ কিছু জায়গাতে এরই মধ্যে রঙ মাখামাখি শুরু করেছেন অতিউৎসাহী নেতাকর্মীরা। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি তার অন্যতম।
বৃহস্পতিবার গেরুয়া আবিরে রঙ খেলে জয়ের অগ্রিম আনন্দে মেতে ওঠেন সেখানকার বিজেপি কর্মীরা। একই আবহ ক্ষমতাসীন তৃণমূলেও। রীতিমতো শপথগ্রহণের দিনক্ষণও ঠিক করে ফেলেছেন দলটির শীর্ষস্থানীয় এক নেতা। অথচ, জিতবে কে? পদ্মফুল নাকি ঘাসফুল? এখনো চার দিন দূরের পথে সেই উত্তর।
রাজ্যে ঝড়তোলা সর্বভারতীয় সমীক্ষায় ‘বিজেপি এগিয়ে’ ফলাফলটি অবশ্য একবারেই পাত্তা দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। আগের দুই এক্সিট পোলের (বিধানসভা ২০২১ ও লোকসভা নির্বাচন ২০২৪) ভরাডুবিকে সামনে এনে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই শুরু করেছে তৃণমূল। সমীক্ষক সংস্থাগুলো রিপোর্ট নিয়ে ফিরহাদ হাকিম জানান, আগামী ৬ মে তৃণমূল সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। তার আগে দলীয় কর্মীদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিলেন কলকাতার মেয়র। মনস্তাত্ত্বিক এই লড়াইতে পিছিয়ে নেই দলের নিচু তলার কর্মীরাও।
হাড্ডাহাড্ডি বাংলা নির্বাচনের লড়াই নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে বসেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে ৯৩.১৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। দুই দফার ভোটপর্ব শান্তিতে মেটার পর এক্সিট পোলের দিকে নজর সাধারণ মানুষের। সরকারবিরোধী হাওয়া প্রবল হওয়ায় নাগরিকদের এখন একটাই প্রশ্ন, প্রথমবারের জন্য কি সরকার গড়তে পারে গেরুয়া শিবির? অধিকাংশ এক্সিট পোলে স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত মিলছে না। তবে সর্বভারতীয় চারটি সমীক্ষা সংগঠন খানিকটা এগিয়ে রেখেছে গেরুয়া শিবিরকে। আরেকটি সমীক্ষা সংস্থা এগিয়ে রেখেছে তৃণমূলকে।
পি-মার্কের সমীক্ষায় উঠে এসেছে, ‘তৃণমূলের ঘরে উঠবে ১১৮ থেকে ১৩৮টি আসন। বিজেপি ১৫০-১৭৫। বাম জোট শূন্য। কংগ্রেস শূন্য। অন্যান্য শূন্য।’ ম্যাট্রিজের জরিপে, ‘তৃণমূল থাকবে ১২৫-১৪০-এর মধ্যে। বিজেপি ১৪৬-১৬১। বাম জোট শূন্য। কংগ্রেস শূন্য। অন্যান্য ৬-১০। চাণক্যের সমীক্ষায় , ‘তৃণমূল ১৩০-১৪০। বিজেপি ১৫০-১৬০। অন্যান্য ৬-১০।’
দিল্লির সমীক্ষা সংস্থা পিপলস পালসের বুথফেরত সমীক্ষা ইঙ্গিত দিয়েছে, তৃণমূল পেতে পারে ১৭৮-১৮৯ আসন। অর্থাৎ ফের একবার পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সমীক্ষা সংগঠনটি অবশ্য বিজেপিকেও ভালো জায়গায় রেখেছে। কারণ তারাও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে, গতবারের থেকে এবারে বিজেপির আসন সংখ্যা অনেকটাই বৃদ্ধি হবে। বিজেপি পেতে পারে ৯৫-১১০ আসন। কংগ্রেস এক-তিন আসন পেতে পারে। বামদেরও খাতা খোলার সম্ভাবনা রয়েছে। জনমতের সমীক্ষাতেও ব্যাপকভাবে এগিয়ে তৃণমূল। ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, তৃণমূল ১৯৫-২০৫টি আসন পেতে পারে। বিজেপি পেতে পারে ৮০-৯০টি আসন। অন্যদের দখলে দুই-তিনটি আসন যেতে পারে।
তবে এ ধরনের বুথফেরত সমীক্ষাগুলো সবসময় যে নিখুঁত হয়, তেমন নয়। গত লোকসভা নির্বাচনে বাংলাসহ সারা ভারতে মুখ থুবড়ে পড়েছিল বিজেপি। তাই বুথফেরত সমীক্ষায় অনেকেরই ভরসা নেই। তাই ৪ মের দিকে তাকিয়ে রাজ্যের সাধারণ নাগরিকরা।



