প্রচ্ছদসর্বশেষইপেপার
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
আগামীর সময়
আতঙ্ক ছড়াচ্ছে হান্টাভাইরাস, প্রতিকার কী

আতঙ্ক ছড়াচ্ছে হান্টাভাইরাস, প্রতিকার কী

বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
আগামীর সময়
  • বেটা
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • সারা দেশ
  • বিশ্ব
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • চট্টগ্রাম
  • শিক্ষা
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
EN
  • বেটা
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • সারা দেশ
  • বিশ্ব
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • চট্টগ্রাম
  • শিক্ষা
  • বিচিত্রা
  • ইপেপার
  • EN

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলীগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় ভারত

বিধানসভায় মোদির জয়জয়কার, ভারতের গণতন্ত্র কোন পথে

অনলাইন ডেস্কপ্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ২০:৩০
বিধানসভায় মোদির জয়জয়কার, ভারতের গণতন্ত্র কোন পথে

৪৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে জয়লাভ করেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২০১৪ সালে মোদি প্রথম ক্ষমতায় আসার পর থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দলটির জন্য।

এপ্রিল মাসে বিভিন্ন তারিখে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের আরও তিনটি রাজ্য—তামিলনাড়ু, আসাম ও কেরালা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে অনুষ্ঠিত হয় বিধানসভা নির্বাচন।

বিজেপি আসামে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতা ধরে রেখেছে, আর এটি যে জোটের অংশ সেটিও পুদুচেরিতে আবার ক্ষমতায় ফিরেছে। দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুতে আবারও এক চলচ্চিত্র তারকার উত্থান দেখা গেছে, যা রাজ্যটির দীর্ঘদিনের চলচ্চিত্র তারকা থেকে জননেতা হয়ে ওঠার ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে। অভিনেতা জোসেফ বিজয় (থালাপাতি) নবগঠিত রাজনৈতিক দল নিয়ে দীর্ঘদিনের দুই প্রধান রাজ্য দলকে পরাজিত করে এগিয়ে রয়েছেন পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে।

পাশের রাজ্য কেরালায় একটি কমিউনিস্ট সরকার তাদের ঐতিহ্যগত প্রতিদ্বন্দ্বী, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে পরাজিত হয়েছে, যা রাজ্যের পরিচিত নির্বাচনী চক্রেরই অংশ। একই সঙ্গে গত ৫০ বছরে প্রথমবারের মতো ভারতের কোনো রাজ্যে ক্ষমতায় নেই বামপন্থিরা।

তবে এই প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ হলেও সোমবারের ফলাফলে পশ্চিমবঙ্গের ফলাফলই সবচেয়ে বড় বার্তা বহন করে।

ভারতের ইতিহাসকে সংজ্ঞায়িত করেছে যে অতীত

১৮শ শতকের মাঝামাঝি পলাশীর যুদ্ধের পর থেকেই ভারতে ঔপনিবেশিকতার গল্প শুরু হয়। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সামরিক শক্তিতে পরিণত হয় একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

প্রায় ১৫০ বছর পরে ১৯০৫ সালে ব্রিটিশরা বঙ্গভঙ্গ করে, যা আধুনিক দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মভিত্তিক বিভাজনের প্রথম বড় উদাহরণ। মুসলিম অধ্যুষিত পূর্বাঞ্চলকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ পশ্চিমাঞ্চল থেকে আলাদা করে তৎকালীন ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড কার্জন এমন একটি কাঠামো তৈরি করেন, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়কে ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

যদিও ১৯১১ সালে এই বিভাজন বাতিল করা হয়, তবুও বঙ্গভঙ্গ অঞ্চলটিতে নতুন রাজনৈতিক চেতনার জন্ম দেয়, যা ঔপনিবেশিক বিরোধী আন্দোলনে বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পায়। এতে নানা মতাদর্শের জাতীয় নেতার জন্ম দেয়, যার মধ্যে হিন্দু জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদদেরও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি, যিনি বিজেপির পূর্বসূরি ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা।

একটি সাংস্কৃতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ ভারতের পক্ষে কথা বলার জন্য ১৯৫৩ সালে মৃত্যুর দুই বছর আগে জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন শ্যামাপ্রসাদ। তিনি ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর ভারতশাসিত কাশ্মীরকে দেওয়া বিশেষ মর্যাদার বিরোধিতা করেন। মোদি ২০১৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই বিতর্কিত অঞ্চলের আংশিক স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে স্বপ্ন পূরণ করেন শ্যামাপ্রসাদের।

সোমবার রাতে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণে মোদি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের এই জয় ‘তার [মুখার্জির] আত্মাকে শান্তি দেবে’।

তবে ধর্মীয় বিভাজনের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও, স্বাধীনতার পর বাংলার রাজনৈতিক পথচলা ছিল অনেক বেশি জটিল। ১৯৭৭ সালে এখানে একটি কমিউনিস্ট সরকার নির্বাচিত হয়, যা টানা ৩৪ বছর ক্ষমতায় ছিল। এরপর ২০১১ সালে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কেন্দ্রপন্থি দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) সেটিকে পরাজিত করে।

আধুনিক ভারতের কিছু অশান্ত সময়েও তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল রাজ্যটি।

১৯৮৪ সালে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে তার শিখ দেহরক্ষীরা হত্যা করার পর বহু রাজ্যে শিখবিরোধী দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। জাতীয় রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রায় ৩ হাজার শিখ নিহত হন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ শান্ত ছিল। আট বছর পরে, ১৯৯২ সালে উত্তর প্রদেশে মোদির দলের নেতৃত্বে হিন্দু উগ্রপন্থিরা একটি মুঘল আমলের মসজিদ ভেঙে ফেলার পর দেশ জুড়ে রক্তপাত শুরু হলেও, আবারও আশ্রয়স্থল হিসেবে রয়ে যায় পশ্চিমবঙ্গ।

এই দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক ব্যতিক্রমধর্মীতা ও আপেক্ষিক সম্প্রীতি কি বিজেপি সরকারের অধীনে বজায় থাকবে? নির্বাচনের ফলাফল থেকে উঠে আসা বড় প্রশ্নগুলোর একটি এটি।

‘পদ্ম ফুটেছে’ — প্রশ্ন হলো কীভাবে

প্রায় ১০ কোটি মানুষের আবাসস্থল পশ্চিমবঙ্গে ২৭ শতাংশ মানুষ মুসলিম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শাসনবিরোধী মনোভাব এবং নিজেদের পরীক্ষিত মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের সমন্বয়ে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে, যেখানে ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় টিএমসি নেমে আসে ৮০ আসনে। এক দশক আগে মাত্র তিনটি আসন থাকা একটি দলের জন্য যা অসাধারণ উত্থান।

‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে!’—সোমবার দুপুরে এক্সে পোস্ট করেন মোদি, যদিও তখনো ভোট গণনা করছিলেন ভারতের নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। তিনি এটিকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ বলে অভিহিত করেন, যা ‘অমর হয়ে থাকবে’ এবং প্রতিশ্রুতি দেন রাজ্যে ‘সুশাসনের রাজনীতি’র।

স্বশাসিত সাংবিধানিক সংস্থা এবং সরকার-নিযুক্ত আমলাদের দ্বারা পরিচালিত ভারতের নির্বাচন কমিশন ২০১৪ সাল থেকে কঠোর নজরদারি ও সমালোচনার মুখে রয়েছে। বিরোধী দল ও নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা এটিকে ভোট চুরি, জালিয়াতি, কারসাজি এবং সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে প্রায় ২৭ লাখ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ এনেছে।

নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে কলকাতাভিত্তিক স্বাধীন গবেষণা সংস্থা সাবার ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে মুসলিমরা অসমভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, বিশেষত সেই জেলাগুলোতে যেখানে তাদের জনসংখ্যা বেশি এবং তারা প্রভাব ফেলতে পারতেন নির্বাচনের ফলাফলে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদবের মতে, ২৭ লাখ ভোট বাদ পড়া মোট প্রদত্ত ভোটের ৪.৩ শতাংশ, যেখানে বিজেপি ও টিএমসির মধ্যে ব্যবধান ছিল প্রায় ৫ শতাংশ।

তিনি মঙ্গলবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় একটি কলামে লিখেছেন, ‘প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া যায় না: যদি এই ২৭ লাখ মানুষ ভোট দিতে পারতেন, তাহলে ফলাফল কীভাবে প্রভাবিত হতো?’ তিনি বিরোধীদের প্রতি আহ্বান জানান ‘নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এমন সাজানো ফলাফল’কে বৈধতা দেওয়া বন্ধ করতে।

নিজের আসনেও চমকপ্রদভাবে পরাজিত হওয়া বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি ‘১০০টিরও বেশি আসন লুট করেছে’। তিনি কলকাতায় সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন হলো বিজেপির কমিশন’ এবং ‘ফিরে আসার’ প্রতিশ্রুতি দেন।

পশ্চিমবঙ্গে কি আসাম মডেল অনুসরণ করবে বিজেপি?

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয় একটি পরিচিত নির্বাচনী কৌশলের ফল, যেখানে মুসলিমবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়া একটি কেন্দ্রীয় উপাদান।

তাদের প্রচার সভায় মোদিসহ দলের নেতারা মুসলিমদের ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ বলে অভিযুক্ত করেন এবং ‘অবৈধ অভিবাসীদের’ রাজ্য থেকে বের করে দিতে হিন্দুদের একত্র হওয়ার আহ্বান জানান। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসায় তথাকথিত ‘অবৈধ’ মুসলিম বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান চালানোর আশঙ্কা আরও বাড়বে।

রাস্তার খাবারের দোকানগুলোতে মাছ ও মাংস (গরুর মাংসসহ) বিভিন্ন ধরনের খাবারের জন্য পরিচিত একটি রাজ্যে নিরামিষভোজিতা চাপিয়ে দেওয়া বা উৎসাহিত করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিজেপি-শাসিত কয়েকটি রাজ্যে মাংস, বিশেষ করে চেষ্টা করা হয়েছে গরুর মাংস বিক্রি ও খাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের।

তবে মাছ সম্ভবত ব্যতিক্রম হবে। হিন্দু ও মুসলিম উভয়ের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য হিসেবে মাছ শুধু প্রোটিনের উৎস নয়; এটি বাঙালি সংস্কৃতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ, যেখানে বিয়ে ও ধর্মীয় আচারেও মাছ ব্যবহৃত হয়। নির্বাচনে জয়ী হলে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কা দূর করতে বিজেপির অনেক নেতাকে প্রচার করতে দেখা গেছে হাতে মাছ নিয়ে।

সোমবার পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে মোদির বক্তব্যেও এই আশঙ্কার প্রতিফলন দেখা যায়।

‘আমাদের ডাবল-ইঞ্জিন সরকার সমাজের সব শ্রেণির জন্য সমান সুযোগ ও সম্মান নিশ্চিত করবে,’ এক্সে লিখেছেন মোদি।

তবে মোদি প্রায়ই ‘সমাজের সব শ্রেণির জন্য’ কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালের তার সফল নির্বাচনী প্রচারণার মূল স্লোগান ছিল ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’, যার অর্থ ‘সবার জন্য সমর্থন, সবার জন্য উন্নয়ন’।

কিন্তু বাস্তবে, বিজেপি বিভিন্ন রাজ্যে যে ধরনের ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকার দিয়েছে, তা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে, বিশেষ করে পাশের আসামে, যা পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চিত্র দেখাতে পারে।

আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ যথাক্রমে বাংলাদেশের সঙ্গে ২৬৩ কিলোমিটার ও ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত ভাগ করে। ঔপনিবেশিক মানচিত্রকাররা উপমহাদেশকে আধুনিক রাষ্ট্রে ভাগ করার অনেক আগে থেকেই বর্তমান বাংলাদেশের মানুষ আসামে ধানক্ষেত ও চা বাগানে কাজ করতে যেতেন।

আজ আসামের ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষের এক-তৃতীয়াংশ মুসলিম, যা ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ অনুপাত—যাদের বেশিরভাগই বিভিন্ন সময়ে সেখানে অভিবাসিত হয়েছেন। এই বাঙালি বংশোদ্ভূত মুসলিমদের অবমাননাকরভাবে ‘মিয়া’ বলা হয়। তাদের বহু দশক ধরে বিদেশি-বিরোধী প্রচারণার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা ২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিজেপি জোরদার করেছে।

১২৬ সদস্যের আসাম বিধানসভায় ১০২টি আসন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ২০২১ সালের তুলনায় আরও বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছেন। এই জোরালো বিজয়ের ফলে তার মুসলিমদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত পাঁচ বছরে তিনি ও তার সরকার মুসলিমদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ ও ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়েছে।

একটি বিতর্কিত নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার ফলে রাজ্যের বৃহৎ মুসলিম ভোটারগোষ্ঠীর প্রভাব আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। আসামে বিরোধী কংগ্রেস থেকে নির্বাচিত ১৯ জন বিধায়কের মধ্যে ১৮ জনই মুসলিম, যা রাজ্যের ধর্মীয় মেরুকরণের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

এই বছরের প্রচারণায় শর্মা আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, ‘অবৈধ বাংলাদেশি মুসলিমদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হবে’। তিনি একটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন, যা ধর্মভিত্তিক ব্যক্তিগত আইনগুলোকে প্রতিস্থাপন করবে এবং ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তথাকথিত জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং ‘লাভ জিহাদ’ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের বাইরে

ভারতের সবচেয়ে উন্নত রাজ্যগুলোর একটি দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ু একটি চমকপ্রদ ফলাফল দিয়েছে।

রাজ্যটিতে চলচ্চিত্র তারকাদের রাজনীতিতে প্রবেশের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। মাত্র দুই বছর আগে তামিলগা ভেত্ত্রি কাজাগম (টিভিকে) দল গঠন করেন অভিনেতা বিজয়। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় ১০৮টি আসন জিতে ক্ষমতাসীন দ্রাবিড়া মুন্নেত্র কাজাগম (ডিএমকে)-নেতৃত্বাধীন জোটকে পরাজিত করেন। পশ্চিমবঙ্গের মমতার মতোই মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিনও নিজের আসনে পরাজিত হয়েছেন।

বিজয়ের উত্থান তামিলনাড়ুর দুই প্রধান দ্রাবিড় দলের দীর্ঘদিনের দ্বৈত আধিপত্য ভেঙে দিয়েছে। এই দলগুলো উত্তর ভারতের প্রভাবশালী দলগুলোর হিন্দি ভাষা ও তথাকথিত উচ্চবর্ণ হিন্দু মূল্যবোধ চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টারও বিরোধিতা করেছে।

তবে ৫১ বছর বয়সী এই অভিনেতা সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের চেয়ে ১০টি আসন কম পেয়েছেন এবং সরকার গঠনের জন্য মিত্রদের প্রয়োজন হবে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেস ও অন্যান্য আঞ্চলিক দল তার সরকারে যোগ দিতে পারে।

উন্নয়ন সূচকে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও উন্নত পাশের রাজ্য কেরালায় ক্ষমতার পরিচিত পালাবদল ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট সরকার কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে পরাজিত হয়েছে, যারা ১৪০ আসনের মধ্যে ১০১টি আসন পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মতো এখানেও প্রায় ২৭ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে এবং তারা এক-চতুর্থাংশ আসনে জয়ী হয়েছে, যার মধ্যে ভারতীয় ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল)-এর একজন প্রথমবারের নারী বিধায়কও রয়েছেন।

দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও মোদির বিজেপি কেরালা ও তামিলনাড়ুতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। তবে এই দুই রাজ্যেও দলের ভোটের হার ক্রমাগত বাড়ছে।

মোদির নেতৃত্বে বিজেপির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে পুঁজিপতি-ঘনিষ্ঠতার। যদিও দলটি এই অভিযোগ অস্বীকার করে। তবে অস্বীকার করা যায় না যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও বেশি জমি, বন ও খনির অধিকার পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কিছু ধনকুবের।

সোমবারের ফলাফলের পর বিজেপির ক্ষমতার সংহতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন দলটি দেশের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে ২১টিতে সরকার পরিচালনা করছে বা শাসক জোটের অংশ। এই রাজ্যগুলো মিলিয়ে ভারতের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের ৮০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে, যা সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৬০-এর দশকে, যখন কংগ্রেস তার শক্তির শীর্ষে ছিল।

সমালোচকরা প্রায়ই বিজেপিকে একটি ‘নির্বাচনী যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেন। ২০২৫ সালে অ্যাসোসিয়েশন অব ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস নামক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থার এক মূল্যায়ন অনুযায়ী, এর মোট আয় ৭১২ মিলিয়ন ডলার, যেখানে তাদের নিকটতম জাতীয় প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের আয় প্রায় ৯৬ মিলিয়ন ডলার। লেখক ও কর্মী অরুন্ধতী রায় একবার বলেছিলেন, ‘এটি একটি ফেরারি ও একটি সাইকেলের মধ্যে প্রতিযোগিতা’।

এখন এই ‘যন্ত্র’ ভারতের সাম্প্রতিক সময়ের নির্বাচনী ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল এনে দেওয়ার পর, রাজ্যগুলোর এই ফলাফল মোদির তৃতীয় মেয়াদের মাঝপথে তাকে আরও শক্তিশালী করেছে। তবে একই সঙ্গে এটি গুরুতর প্রশ্নও উত্থাপন করেছে—ভারত কি আরও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠছে? এটি কি একদলীয় আধিপত্যের দিকে এগোচ্ছে? এবং বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল গণতন্ত্রে নির্বাচন কি ভবিষ্যতেও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ থাকবে?

আলজাজিরা থেকে অনূদিত। ভাষান্তর : আহসান হাবিব মারুফ

নরেন্দ্র মোদিবিধানসভা নির্বাচনবিজেপিভারতের গণতন্ত্র
    শেয়ার করুন:
    পশ্চিমবঙ্গজয়ী শুভেন্দু অধিকারীর পিএসকে গুলি করে হত্যা

    পশ্চিমবঙ্গজয়ী শুভেন্দু অধিকারীর পিএসকে গুলি করে হত্যা

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:১৭

    লাখো কৃষকের মাথায় হাত, লোকসান প্রায় ৯০০ কোটি টাকা

    লাখো কৃষকের মাথায় হাত, লোকসান প্রায় ৯০০ কোটি টাকা

    ০৬ মে ২০২৬, ২৩:৪৭

    মাঝখানের মানুষটির চিৎকার কেউ শোনে না

    মাঝখানের মানুষটির চিৎকার কেউ শোনে না

    ০৭ মে ২০২৬, ০১:০৬

    রাজনৈতিক পালাবদলে কতটা নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজ?

    রাজনৈতিক পালাবদলে কতটা নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজ?

    ০৬ মে ২০২৬, ২৩:১৯

    আশুলিয়ায় জিরানী ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ি বেহাল, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

    আশুলিয়ায় জিরানী ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ি বেহাল, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:০০

    খাদ্য সংকটে পানির দরে গরু বিক্রি করছেন সুনামগঞ্জের হাওরপারের কৃষকরা

    খাদ্য সংকটে পানির দরে গরু বিক্রি করছেন সুনামগঞ্জের হাওরপারের কৃষকরা

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:০৭

    নড়াইলে বিনা পয়সায় পুলিশে চাকরি পেলেন ১৪ তরুণ-তরুণী, আনন্দে চোখে জল

    নড়াইলে বিনা পয়সায় পুলিশে চাকরি পেলেন ১৪ তরুণ-তরুণী, আনন্দে চোখে জল

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:১২

    সাটুরিয়ায় গ্রামবাসীর অর্থায়নে নির্মিত সেতুতে ঘুচল ১২ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

    সাটুরিয়ায় গ্রামবাসীর অর্থায়নে নির্মিত সেতুতে ঘুচল ১২ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

    ০৬ মে ২০২৬, ২৩:৫৭

    এবারও কি ঢাকা ডোবাবে পলিথিন

    এবারও কি ঢাকা ডোবাবে পলিথিন

    ০৬ মে ২০২৬, ১০:০১

    ‘ঝাল ঝাল শুঁটকি না থাকলে মন ভরে না’

    ‘ঝাল ঝাল শুঁটকি না থাকলে মন ভরে না’

    ০৭ মে ২০২৬, ০৬:৩৪

    সাতক্ষীরার বদরতলা-ব্যাংদহা সড়ক এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের পছন্দের গন্তব্য

    সাতক্ষীরার বদরতলা-ব্যাংদহা সড়ক এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের পছন্দের গন্তব্য

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:০৩

    বাংলাদেশ হাঁটছে উল্টো পথে

    বাংলাদেশ হাঁটছে উল্টো পথে

    ০৬ মে ২০২৬, ২৩:১৫

    উন্নয়ন বরাদ্দে উচ্চাভিলাষ

    উন্নয়ন বরাদ্দে উচ্চাভিলাষ

    ০৭ মে ২০২৬, ০৯:০৩

    প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল, ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের দুই নারীসহ গ্রেপ্তার ৪

    প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল, ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের দুই নারীসহ গ্রেপ্তার ৪

    ০৬ মে ২০২৬, ২৩:৫১

    হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মৃত্যু, গয়না খুলে পালালেন স্বামী

    হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মৃত্যু, গয়না খুলে পালালেন স্বামী

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:৪৬

    advertiseadvertise