পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফলের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ
- তিস্তা চুক্তি কি এবার এগোবে?

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শেষ। ফল ঘোষণা আগামীকাল ৪ মে। এই নির্বাচনের ফলের দিকে শুধু রাজ্য তাকিয়ে নয়, নজর রয়েছে প্রতিবেশী বাংলাদেশেরও। বিশেষ করে বহুপ্রতীক্ষিত তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
দেড় দশক ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে থাকা সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, নাকি পরিবর্তন আসবে— তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। তবে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তিস্তা চুক্তি নিয়ে একটা সুপ্রত্যাশা থাকছেই বাংলাদেশের।
ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২০০ কিলোমিটারের বেশি আন্তর্জাতিক সীমান্ত। যার বড় অংশ জুড়েই পশ্চিমবঙ্গ। দুই দেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মিল থাকায় পারস্পরিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তরবঙ্গ ও বাংলাদেশের জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত তিস্তা নদীর উৎপত্তি হিমালয়ের সিকিমে। সেখান থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ কমে যাওয়ায় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয় বাংলাদেশে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবারই জানিয়েছেন, রাজ্যের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো চুক্তিতে তিনি সম্মত নন। ২০২৪ সালেও তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলেও তিস্তার পানি ছাড়ার বিষয়ে আপত্তি জানাবেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ঢাকা। এতে প্রধান বাধা হিসেবে উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তি। ২০১১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আমলে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায় ২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময়ও।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবারই জানিয়েছেন, রাজ্যের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো চুক্তিতে তিনি সম্মত নন। ২০২৪ সালেও তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলেও তিস্তার পানি ছাড়ার বিষয়ে আপত্তি জানাবেন তিনি।
অন্যদিকে, দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি হয়নি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বিষয়টি কয়েকবার উত্থাপন করা হয়েছে ভারতের দপ্তরে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফল কি নির্ধারণ করবে তিস্তা চুক্তির ভবিষ্যৎ? নতুন সরকার এলে কি অবস্থান বদলে যাবে, নাকি বজায় থাকবে পুরনো অবস্থানই?





