উত্তরপ্রদেশ
আদালতে স্বামী অদলবদলের অনুরোধ দুই বোনের

ছবি: এআই
ভারতের মধ্যপ্রদেশে এক ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন আদালত। অপহরণের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি হেবিয়াস কর্পাস মামলার শুনানিতে উঠে আসে স্বামী অদলবদলের অদ্ভুত আবেদন।
দতিয়ার এক বাসিন্দা আদালতে অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী ও কন্যাকে অপহরণ করেছেন তার ভায়রাভাই, অর্থাৎ শ্যালিকার স্বামী। অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারপতি পুলিশকে নির্দেশ দেন, অভিযুক্তসহ নিখোঁজদের আদালতে হাজির করতে। নির্দেশ অনুযায়ী সম্প্রতি পুলিশ আদালতে উপস্থিত করে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং ওই নারী ও শিশুকে। আর সেখানেই সামনে আসে পুরো ভিন্ন চিত্র।
আদালতে উপস্থিত হয়ে তথাকথিত ‘অপহৃত’ নারী জানান, কেউ অপহরণ করেনি তাকে। তিনি স্বেচ্ছায় নিজের মেয়েকে নিয়ে বোনের স্বামীর কাছে গেছেন এবং থাকতে চান সেখানেই। নিজের স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না তার। এমনকি তিনি ইতোমধ্যে করেছেন বিয়েবিচ্ছেদের মামলাও।
ঘটনাকে আরও অপ্রত্যাশিত করে তোলে আরেকটি বিষয়—অভিযুক্ত মায়ারামের স্ত্রীও সেদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তিনি বোনের বক্তব্যের কোনো বিরোধিতা করেননি। বরং বিচারপতি যখন তার মতামত জানতে চান, তখন তিনিও জানান, তিনি তার দুলাভাইয়ের সঙ্গে থাকতে চান। এমনকি দুই বোনের স্বামী অদলবদল করে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি।
দুই বোনই একসঙ্গে আদালতে জানান, তারা নিজেদের বর্তমান স্বামীদের সঙ্গে সুখী নন। তাই আদালতের কাছে তাদের অনুরোধ— যেন স্বামী অদলবদল করে একসঙ্গে নতুনভাবে থাকতে দেওয়া হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সন্তান রয়েছে দুই দম্পতিরই।
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি পর্যবেক্ষণ দেন, সংশ্লিষ্ট সবাই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের আছে। মামলাটি মূলত অপহরণের অভিযোগে করা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে এটি পারিবারিক দ্বন্দ্ব ছাড়া কিছু নয়। তাই আদালত জানান, এ ধরনের বিষয় নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেই মীমাংসা করা উচিত। এরপর হেবিয়াস কর্পাস মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত।
সূত্র : আনন্দবাজার



