পশ্চিমবঙ্গে লুঙ্গি পরে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে বাধা
- নাতির প্যান্ট পরে ভোট দিলেন বৃদ্ধ

দিসার আলী মণ্ডল
লুঙ্গি পরে আসায় এক বৃদ্ধ ভোটারকে ঢুকতে দেওয়া হলো না কেন্দ্রে। বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে নাতির একটি প্যান্ট পরে আবার ভোটকেন্দ্রে আসেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় ও শেষ দফার বিধানসভা ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর (সিএপিএফ) বিরুদ্ধে উঠেছে এমনই অভিযোগ। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
গাইঘাটা বিধানসভার বেড়গুম এক নম্বর পঞ্চায়েতের কুঁচলিয়া এলাকায় ভোট দিতে গিয়ে অপমানের মুখে পড়েন দিসার আলী মণ্ডল (৭৮)।
স্থানীয়দের দাবি, সকালে তিনি স্বাভাবিক নিয়মেই লুঙ্গি পরে ভোটকেন্দ্রে যান। কিন্তু সেখানে মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাকে আটকে দেন। কেন তিনি লুঙ্গি পরে এসেছেন, সেই প্রশ্ন তোলা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এরপর তাকে জানানো হয়, এই পোশাকে ভোট দেওয়া যাবে না। আচমকা এমন পরিস্থির মুখে পড়ে ভোট না দিয়েই তিনি ফিরে যান বাড়ি। নিজের প্যান্ট না থাকায় পরে নাতির একটি প্যান্ট পরে ফের ভোটকেন্দ্রে আসেন। তখন আর তাকে আটকানো হয়নি এবং নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
মণ্ডলের অভিযোগ, ‘আমি ৩০ বছর ধরে লুঙ্গি পরছি। এর আগেও ভোট দিয়েছি এ পোশাকেই। তবে বুধবার যখন আমি ভোটার সারিতে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন সিএপিএফের সদস্যরা আমাকে বললেন, লুঙ্গি পরে থাকায় আমি কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারব না। আমাকে বাড়ি ফিরে লুঙ্গি পরিবর্তন করে প্যান্ট পরে আসতে বলেন। আমি আগে কখনো শিকার হয়নি এ রকম হেনস্তার।’
সু চির সাজা আরও কমছে
৩০ এপ্রিল ২০২৬
গণেশ মজুমদার (৮০) নামের আরও এক ভোটার একই অভিযোগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আরও কয়েকজন গ্রামবাসীকেও পড়তে হয়েছে একই ধরনের হেনস্তার মুখে। কুঁচলিয়া গ্রামাঞ্চলে বহু বয়স্ক মানুষ প্রতিদিনের মতো লুঙ্গিই পরেন। অতীতের কোনো নির্বাচনেই এই পোশাক নিয়ে আপত্তি ওঠেনি। ফলে আচমকা এমন নিষেধাজ্ঞা ঘিরে শুরু করেছে প্রশ্ন উঠতে।
এদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই বুধবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। কুঁচলিয়ার ঘটনার প্রতিবাদে এলাকায় বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসী। তৃণমূল নেতৃত্বও কেন্দ্রীয় বাহিনীর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওই অবস্থান থেকে সরে আসে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এরপর লুঙ্গি পরা ভোটারদের আর বাধা দেওয়া হয়নি। যদিও এই বিষয়ে প্রিসাইডিং অফিসার প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফেও কিছু জানানো হয়নি আনুষ্ঠানিকভাবে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার বিকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘অমিত শাহের অধীনে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী আজ (বুধবার) বিজেপির ব্যক্তিগত সেনাবাহিনীতে পরিণত হয়েছে— সাধারণ মানুষের ওপরে লেলিয়ে দেওয়া লাইসেন্সড গুণ্ডাবাহিনী।’
আগামী ৪ মে ভোট গণনার মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। একই দিনে ভারতের আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির নির্বাচনের ফলও করা হবে প্রকাশ।
টাইমস অব ইন্ডিয়া




