ভিডিও বার্তায় মমতা
২২৬ আসন পাবে তৃণমূল, বুথফেরত সমীক্ষা বিজেপির চক্রান্ত

সংগৃহীত ছবি
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ২২৬টির বেশি আসন পেয়ে জিতবে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, বুথফেরত সমীক্ষা ‘বিজেপির চক্রান্ত’। তারা টাকা দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে সমীক্ষার ওই ফল দেখাতে বাধ্য করেছে। বৃহস্পতিবার এক ভিডিওবার্তায় এমন দাবি করেন তিনি।
বুধবার রাজ্যের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পরই সন্ধ্যা থেকে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে বুথফেরত সমীক্ষার ফল। অধিকাংশ সমীক্ষাতেই ইঙ্গিত, বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছে পশ্চিমবঙ্গে। ২৯৪ আসনের রাজ্য বিধানসভায় সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষায় দেখা যায়, বিজেপির আসন ১৫০ পেরিয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার সেই সমীক্ষা নিয়েই মুখ খুললেন মমতা। এক ভিডিওবার্তায় তিনি রাজ্যের মানুষের উদ্দেশে বললেন, ‘এত রোদের মধ্যেও, এত অত্যাচার সহ্য করেও আপনারা যেভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। আমার কর্মীদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। ওরা প্রাণপণ লড়াই করেছে। অনেক অত্যাচার সহ্য করেছে। যারা বাংলাকে জব্দ করতে চেয়েছিলেন, তারা ভোটবাক্সে জব্দ হয়ে গেছেন।’
মমতার ভাষ্য, ‘আমি আপনাদের নিশ্চিন্ত করে বলতে চাই, যেটা টিভিতে দেখাচ্ছে, গতকাল (বুধবার) দুপুর ১টা ৮ মিনিটে বিজেপির অফিস থেকে সেই সার্কুলার জারি করা হয়েছে। টাকা দিয়ে বলা হয়েছে ওটা দেখাতে। জোর করে সংবাদমাধ্যমকে এটা করতে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা ২২৬ ক্রস করব। ২৩০-ও পেয়ে যেতে পারি। মানুষ যেভাবে ভোট দিয়েছে, আমার পুরো ভরসা রয়েছে।’
ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং এখানকার পুলিশ বাহিনীর যৌথ অত্যাচার তৃণমূল কর্মীদের সহ্য করতে হয়েছে বলেও দাবি মমতার।
তৃণমূল নেত্রী আরও যোগ করলেন, ‘বিজেপি তো ইডি, সিবিআই সবাইকেই চমকায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী যে ব্যবহার গতকাল করেছে, নতুন যেসব পুলিশ নিযুক্ত হয়েছিলেন, যারা আমার হাতে ছিলেন না, তারা মেয়েদের মেরেছেন। বাচ্চাদের মেরেছেন। উদয়নারায়ণপুরে যে ভদ্রলোক ভোট দিতে গিয়ে মারা গেলেন, তার শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানানোর ভাষা আমার নেই। ওই পরিবারের পাশে আমরা থাকব।’
মমতার অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মীরা একতরফাভাবে মার খেয়েছেন, তবু এলাকা ছেড়ে যাননি। অনেককে ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করেন মমতা। জানালেন, ‘আমাদের কর্মীদের মেরেছে, যাতে তারা এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে না পারেন। বিশেষ করে ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া, জগদ্দল। আমাদের এখানে ভবানীপুরেও সারা রাত রেড (তল্লাশি অভিযান) হয়েছে। আমি দুদিন ঘুমোইনি।’
বুথফেরত সমীক্ষাকে ‘বিজেপির চক্রান্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন মমতা। তার দাবি, ‘সত্যিটা’ বেরিয়ে এলে শেয়ারবাজারে নামবে ধস। তা আটকাতে এই সমীক্ষা দেখানো হয়েছে। মমতার ভাষ্য, ‘বিজেপি এত করেও মানুষের অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করতে পারল না। তাই সংবাদমাধ্যমকে দিয়ে ওরা শেষ খেলা খেলেছে। যাতে উল্টাপাল্টা বলে আমাদের কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়া যায়। আমার কাছে খবর আছে, শেয়ার মার্কেটকে সান্ত্বনা দিতে ওরা এটা করেছে।’
এ সময় ২০১৬ এবং ২০২১ সালের ভোটের ফলের আগে প্রকাশিত সমীক্ষার কথাও মমতা মনে করিয়ে দিয়েছেন।
কর্মীদের উদ্দেশে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। তিনি বললেন, ‘ভোট গণনাকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। দরকারে আমিও আমার এলাকায় পাহারা দিতে নামব। প্রার্থীরা নিজে পাহারা দিন। রাত জাগুন। আমি যদি পারি, আপনারাও পারবেন। কারণ, গণনাকেন্দ্রে ইভিএম নিয়ে যাওয়ার সময় যন্ত্র বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাই এটা অবহেলা করবেন না। আমি যতক্ষণ সাংবাদিক বৈঠক করে না বলব, ততক্ষণ কেউ গণনার টেবিল ছাড়বেন না।’
ভোট গণনার দিন নেতাকর্মীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন মমতা। তার আশঙ্কা, ‘টেবিলে যে ভোট গোনা হয়, যন্ত্রস্থ করার সময় তা বদলে দেওয়া হতে পারে। তৃণমূলের ভোট চালিয়ে দেওয়া হতে পারে বিজেপির নামে। প্রার্থী হিসেবে তিনি নিজেও গণনাকেন্দ্র পরিদর্শনে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
কর্মীদের উদ্দেশে মমতার বার্তা, ‘গণনার সময় ঠায় বসে থাকবেন কেন্দ্রে। কাউকে শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য বা খাবার খাওয়ার জন্য উঠতে হলেও ২ মিনিটের বেশি নয়। এমন কাউকে ওই সময়ে বসিয়ে যাবেন, যিনি বিশ্বস্ত। টাকা দিয়ে যাকে কেনা যায় না।’
কর্মীদের সবাইকে শান্ত ও সংযত থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন মমতা। বললেন, ‘ওরা (বিজেপি) হামলা করলেও আপনারা এক্ষুনি হামলায় যাবেন না। গতকালও অনেক মারধর করা হয়েছে। ভাঙড়ে আমার কর্মীদের যেভাবে পেটানো হয়েছে, রক্তাক্ত করা হয়েছে— এর জবাব ওদের দিতেই হবে। কাউকে আইন হাতে তুলে নিতে হবে না। আমরা ব্যবস্থা করব। প্রশাসনকে অনুরোধ, ভোট গণনার সময় আমাদের ছেলের গায়ে বা কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মীর গায়ে হাত দেবেন না।’
কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির ‘এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করেছে বলেও অভিযোগ মমতার। তার দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সরাসরি হস্তক্ষেপে এটা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও কটাক্ষ করেছেন মমতা। বললেন, ‘ভোট চলাকালীন উনি কী করে বললেন বাংলাটা ওনার? উনি কি বাংলাকে চেনেন? বাংলার মাটিকে চেনেন? কাউকে চেনেন না।’
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস



