বিজয়কে শপথ পড়াতে অস্বীকৃতি রাজ্যপালের

বৃহস্পতিবার রাজ্যপালের ভবনে দেখা করেছেন টিভিকে প্রধান বিজয় থালাপতি। ছবি : এনডিটিভি
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে অভিনেতা ও টিভিকে প্রধান বিজয় থালাপতিকে শপথবাক্য পাঠ করাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন রাজ্যপাল আর ভি আরলেকার। নির্বাচনের ফলাফলে বিজয়ের দল সর্বোচ্চ আসন পেলেও সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।
এনডিটিভিকে সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাজ্যপালের ভবনে দ্বিতীয়দিনের মতো গেলে বিজয়কে তার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান আরকেলার। তিনি মনে করেন, বড় ব্যবধানে জয় সত্ত্বেও টিভিকে-র কাছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সমর্থক নেই।
বৃহস্পতিবার সকালে বিজয়কে রাজ্যপালের বাসভবনে ডেকে পাঠানো হয় এবং তাকে একাধিক প্রশ্ন করা হয়। এর মধ্যে ছিল, তিনি কীভাবে মাত্র ১১৩ জন বিধায়ক (অর্থাৎ তার নিজের ১০৮ জন এবং কংগ্রেসের পাঁচজন) নিয়ে সরকার চালাবেন এবং অন্য কোন দলগুলো তাকে সমর্থন করতে পারে।
বিজয়কে ভবিষ্যৎ সঙ্গীদের বিষয়েও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল; টিভিকে ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা দুটি বাম দল এবং দুটি আঞ্চলিক দলের কাছ থেকে ছয়টি আসন আশা করছে।
সূত্র জানায়, অভিনেতা বিজয় রাজ্যপালকে জানিয়েছেন যে তিনি আস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
এদিকে, টিভিকে জানিয়েছে যে তারা রাজ্যপালকে বাধ্য করতে এই মুহূর্তে আদালতের দ্বারস্থ হবে না।
এর আগে, গতকাল বিজয় রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠন করতে চান। তবে রাজ্যপাল তাকে ফিরিয়ে দেন। কারণ ১১২ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে গিয়েছিলেন সরকার গঠনের জন্য, কিন্তু সরকার গড়তে তো অন্তত ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন লাগবে। তাই রাজ্যপাল বিজয়কে ফিরিয়ে দেন এবং ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে আসতে বলেন।
প্রসঙ্গত, তামিলনাড়ুর ২৩৪ আসনের মধ্যে বিজয়ের দল টিভিকে ১০৮টি আসন পেয়েছে। সরকার গঠনের জন্য আরও ১০ জন বিধায়কের সমর্থনের প্রয়োজন। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই টিভিকে-কে সমর্থন জানানোর ঘোষণা করেছে। তবে কংগ্রেসের ঝুলিতে রয়েছে মাত্র ৫টি আসন। আরও ৫ জন বিধায়কের সমর্থনের প্রয়োজন। অন্যদিকে বিজয় নিজেও দুটি আসন থেকে জিতেছেন। একটি আসন তাকে ছেড়ে দিতে হবে। ফলে অন্তত আরও ৬ জন বিধায়কের সমর্থনের প্রয়োজন। এই ছয়জন বিধায়ক কারা হবেন, তা নিয়েই সংশয়।
বিধানসভার ফলাফলে তৃতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া এআইএডিএমকে-তে ইতিমধ্যেই ফাটল ধরেছে। বেশ কিছু বিধায়ক টিভিকে-কে সমর্থন জানাচ্ছেন প্রকাশ্যে। তবে কংগ্রেস আবার শর্ত রেখেছে, টিভিকে যেন এনডিএ বা তাদের শরিক কোনও দলের সঙ্গে হাত না মেলায়।
শোনা যাচ্ছিল, আগামিকাল বা ৮ মে শপথ গ্রহণ করতে পারেন বিজয়। তবে যে পরিস্থিতি, তাতে পর্যাপ্ত সমর্থন জোগাড় করতে না পারলে, সরকার গঠন করতে পারবেন না বিজয়।
বিজয়ের সরকার গঠনের ঘাটতির অর্ধেক পূরণ করবে কংগ্রেস, যারা শর্তসাপেক্ষ সমর্থনের প্রস্তাব দিয়েছে। শর্তটি হলো, টিভিকে ‘সাম্প্রদায়িক শক্তির’ (যা ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপিকে ইঙ্গিত করে) সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখবে না।
বাকি অর্ধেক আসন সম্ভবত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-র চারটি করে আসন, সেইসঙ্গে বিদুতলাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (দুটি আসন) এবং পাট্টালি মাক্কাল কাচ্চি (চারটি আসন)-র মতো ছোট তামিল দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে পূরণ করা হবে। জানা গেছে, বিজয় এই শেষোক্ত দলগুলোর সঙ্গে জোট করতে আগ্রহী, কারণ এতে কাজের সম্পর্ক আরও সহজ হবে।
টিভিকে + কংগ্রেস + বাম + ভিসিকে + পিএমকে-র এই জোট বিজয়কে ১২৩টি আসন এনে দিয়েছে, যা অভিনেতা তার ত্রিচি (পূর্ব) আসন থেকে পদত্যাগ করলে কমে ১২২-এ দাঁড়াবে। বিজয় দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছিলেন।
কিন্তু সন্দেহ রয়েছে; বিদায়ী দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগাম, বিজয়ের 'রাজনৈতিক শত্রু'-র সঙ্গে এবং পিএমকে তাঁর 'মতাদর্শগত শত্রু' ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে।
বিজয়ের সঙ্গে যোগ দিতে হলে ভিসিকে ও পিএমকে-দুজনকেই তাদের বর্তমান জোট ভাঙতে হবে, কিন্তু টিভিকে-র পরবর্তী সরকার গঠন এবং অভিনেতার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য এটাই সবচেয়ে সম্ভাব্য পথ বলে মনে হচ্ছে।
অন্য বিকল্পটিকে ব্যাপকভাবে কম সম্ভাবনাময় বলে মনে করা হচ্ছে। সেটি হলো টিভিকে এবং এআইএডিএমকে-তে মধ্যে একটি জোট। এ দলটি গত ৬২ বছর ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকারী দ্রাবিড় অংশ।
বিজয় প্রশ্নে এআইএডিএমকে-র মধ্যে ফাটলের কথা শোনা যাচ্ছে।
এই নির্বাচনের প্রচারণায় বিজয়ের দল টিভিকে ডিএমকে এবং বিজেপির ওপর প্রচণ্ড আক্রমণ চালিয়েছিল। এর সুফলও তারা ভালোভাবেই পেয়েছে। তবে, বিজয় বা টিভিকে কেউই সরাসরি এআইএডিএমকে দলটিকে লক্ষ্যবস্তু করেনি।
সম্ভবত সেই নরম নীতির ফলেই এআইএডিএমকে-র বিভিন্ন গোষ্ঠী বিজয়ের সঙ্গে জোট বাঁধতে প্রস্তুত আছে।
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে যদি টিভিকে যথেষ্ট শক্তিশালী জোট গঠন করতে না পারে, তাহলে রাজ্যপাল নবনির্বাচিত বিধানসভা স্থগিত করতে পারেন এবং কেন্দ্রকে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করতে পারেন, যার ফলে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।



