অভিযোগ মমতার
ফলের আগের রাতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে লোডশেডিং করা হয়েছে

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি : সংগৃহীত।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ঠিক আগের রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দলীয় কর্মীদের কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটগণনার আগে স্ট্রং রুমে কড়া নজরদারি ও রাত জেগে পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
গতকাল রবিবার (৩ মে) কালীঘাটের নিজ বাসভবন থেকে ভবানীপুর কেন্দ্রের কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠক শেষে গভীর রাতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মীদের এই সতর্ক করেন।
তৃণমূলের নেত্রী তার পোস্টে অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে। তিনি লিখেছেন, ‘সতর্ক থাকুন। পাহারা দিন। রাত জাগুন। অভিযোগ করুন।’
মমতার দাবি, হুগলির শ্রীরামপুর, নদীয়ার কৃষ্ণনগর, বর্ধমানের আউশগ্রাম ও কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলনকেন্দ্রে দফায় দফায় বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের সুযোগে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং স্ট্রং রুমের আশেপাশে সন্দেহজনকভাবে গাড়ি যাতায়াত করছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।
স্ট্রং রুম পাহারার আহ্বান জানিয়ে মমতা আরও লিখেন, ‘আমি যেভাবে রাত জেগে সব বিষয়ের ওপর নজর রাখছি, আপনারাও সেভাবে জনগণের ভোট পাহারা দিন। কোথাও কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখলে তাদের ঘিরে ধরুন, তাৎক্ষণিক অভিযোগ করুন এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখুন।
একই ঘটনায় রবিবার রাতে কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলনকেন্দ্রে সিসিটিভি মনিটর বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ।
ভিডিও পোস্ট করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘সিসিটিভির পর্দা কালো কেন? ভেতরে কী হচ্ছে? কেন নো ভিডিও লেখা উঠছে? ভিডিওতে বেশ কিছু স্ক্রিন বন্ধ থাকতে দেখা গেছে।’
নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার পর থেকেই স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। গত বৃহস্পতিবার রাতে কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজার মতো জ্যেষ্ঠ নেতারা ক্ষুদিরাম অনুশীলনকেন্দ্রের সামনে অবস্থানে বসেছিলেন।
একই রাতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে মমতাও শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্ট্রং রুমে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। ভোটগণনা শুরুর আগপর্যন্ত স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন।





