বিজয় ভাষণে উচ্ছ্বসিত মোদি
অঙ্গ কলিঙ্গের পর এবার বঙ্গে পদ্ম

নরেন্দ্র মোদি
সোমবার সন্ধ্যা ছিল অন্যরকম। বিজেপির নয়নমণি নরেন্দ্র মোদির এমন ফুরফুরে মেজাজ গত কয়েক দশকে কেউ দেখেনি। পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটছে— এই আনন্দে একেবারে বাঙালি বেশে দিল্লির দলীয় সদর দপ্তরে আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। মোদি কোটি ছেড়ে বাঙালির ধুতি, পাঞ্জাবি ও গলায় গেরুয়া উত্তরীয় পরে মঞ্চে ওঠেন।
সঙ্গে সঙ্গে বেজে উঠল বাংলায় লেখা বিজেপির প্রচারের থিম সং। মঞ্চে পৌঁছতেই হাতে তুলে দেওয়া হয় মা দুর্গা এবং মা কামাখ্যার ছবি। দলের সভাপতি নীতিন নবীনের পরই বক্তব্য দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আজ দলের কয়েক কোটি কর্মী এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন। আজকের দিনটি ঐতিহাসিক এবং বাংলায় জয়ের মধ্য দিয়ে নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বললেন , ‘অঙ্গ (বিহার) কলিঙ্গের (ওড়িশা) পর বঙ্গে (পশ্চিমবঙ্গ) পদ্ম।’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের শুরুতে শাঁখ বেজে ওঠে এবং উলুধ্বনি দেওয়া হয়। তার মধ্য দিয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি বলেছেন, ‘এই জয় দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জয়, গণতন্ত্রের জয়, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জয়।’
তিনি বললেন, ‘আমি বলেছিলাম, বিহার হয়ে গঙ্গা গঙ্গাসাগর যায়। আজ সেটাই হয়েছে। গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত পদ্মফুল ফুটেছে। গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে হার-জিত স্বাভাবিক। তবে এই জয় হয়েছে ভারতের সংবিধানের।’ তার বক্তব্যের সময় দলের সদর দপ্তরের কর্মী, সমর্থকরা ‘মোদি মোদি’ স্লোগান দিতে থাকেন।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের মূলমন্ত্র নাগরিক দেব ভবো। আমরা জনতার সেবক। সে কারণেই জনতা আমাদের ওপর ভরসা রেখেছেন। সাম্প্রতিক অনেক উপনির্বাচনের ফলও খুব গুরুত্বপূর্ণ। মহারাষ্ট্র, গুজরাট, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরায় আমাদের প্রার্থীরা মানুষের আশীর্বাদ পেয়েছেন এবং সেই রাজ্যগুলোতে আমাদের দল জিতেছে।’
প্রধানমন্ত্রীর দাবি, আজ শান্তি পেয়েছে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির আত্মা। তার দাবি, আজ থেকে বাংলার মানুষের ভাগ্যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে, ভয়মুক্ত হয়েছে। এরপরই তিনি বললেন, ‘বাংলায় পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে।’
আলোচিত ১০ (৪ মে ২০২৬)
০৪ মে ২০২৬
একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বন্দেমাতরমের ১৫০ বছরে বাংলার মানুষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বাংলার নারীরা অনেক অত্যাচার সহ্য করেছেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তার বক্তব্য, ‘এখন সূর্য ডুবে গেলেই আজ বাংলায় নতুন সূর্যোদয় হলো। এমন একটা সকালের অপেক্ষা ছিল বিজেপি কর্মীদের। আজ হিংসা, তোষণের রাজনীতিকে বাংলার মানুষ উপড়ে ফেলে দিয়েছে। আজ থেকে বাংলার ভবিষ্যতের পথচলা শুরু হলো, যেখানে বিশ্বাস, নতুন স্বপ্ন পায়ে পায়ে এগিয়ে চলবে। বাংলায় নারীদের সুরক্ষা, যুবকদের চাকরি হবে। প্রথম ক্যাবিনেটেই পাস হবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। বাংলার উন্নয়নের লক্ষ্যে দিনরাত এক করে দেবে কেন্দ্রীয় সরকার।’
তিনি বলেছেন, ভয়মুক্ত বাংলা গঠন করা মোদির গ্যারান্টি। তার কথায়, ‘আগে বাংলায় ভোটে হিংসা, ভয়, সন্ত্রাস, জীবনহানির খবর আসত। এবার নতুন খবর এলো, বাংলায় ভোটে কোনো হিংসা হয়নি, একজনও নির্দোষ মানুষের প্রাণ যায়নি। প্রথমবার গণতন্ত্রের জয় হয়েছে।’ একই সঙ্গে বাংলার নির্বাচন হিংসামুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বললেন, বিকশিত ভারত গড়ে তোলার পক্ষে পূর্ব ভারতের বিরাট অবদান রয়েছে।
ভক্ত অটোচালক এখন বিধায়ক
০৪ মে ২০২৬
তিনি বলেছেন, অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গের মানুষ উন্নয়নের জন্য বিজেপিকে বেছে নিয়েছেন। তার কথায়, বঙ্গ ছিল এক সময়ে সাংস্কৃতিক পীঠস্থান। অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গের উন্নয়নে বিজেপি আগামী দিনে সচেষ্ট হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। বাংলা, আসাম, পুদুচেরির মানুষের সব আশা, প্রত্যাশা পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।





