জয়ের আগেই জয়োল্লাস বিজেপির

সংগৃহীত ছবি
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের খবরাখবর যারা রেখেছেন, তারা নিশ্চয়ই পরিচিত বাঙালি অস্মিতা শব্দের সঙ্গে। কেননা, বরাবরের মতো এবারও ভারতের এই রাজ্যটির নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বাঙালি অস্মিতার।
যারা জানেন না, তাদের বলছি— বাঙালি অস্মিতা বলতে বাঙালি জাতির নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং ভৌগোলিক পরিচিতির প্রতি গর্ববোধ ও আত্মসচেতনতাকে বোঝায়। এটি মূলত ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, ঐতিহ্য এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার সংমিশ্রণ, যা রাজনৈতিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের মতো অঞ্চলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। একে দেখা হয় নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষার লড়াই হিসেবেও।
বলা হয়ে থাকে, এই বাঙালি অস্মিতাকে পুঁজি করেই ১৫ বছর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে কোণঠাসা করে রেখেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু এবার শুরু থেকেই বাঙালি ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা ছিল বিজেপি নেতাদের মধ্যে। তাই সোমবার (৪ মে) জয়ের পূর্বাভাস পেতেই মাছ-ভাত খেয়ে অগ্রিম আনন্দে ভাসলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। এ যেন জয়ের আগেই জয়োল্লাস।
অবশ্য বিজেপির দপ্তরে সবসময়ই আমিষ-নিরামিষ দুই ধরনের খাবারের ব্যবস্থাই থাকে। বাঙালি নেতারা মাছ খেলেও উত্তর ভারত থেকে বাংলায় আসা সিংহভাগ নেতাই খান নিরামিষ। বিষয়টি নিয়ে বাংলার বিজেপিকে প্রায়ই কটাক্ষের মধ্যেও পড়তে হয়। কিন্তু আজকের দৃশ্য ভিন্ন।
বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করলেন বিজেপির নেতাকর্মীরা। কারণ বিজেপির কাছে তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের স্থপতি। সেইসঙ্গে সল্টলেকে বিজেপির সদর দপ্তরে বাজি-পটকা ফাটিয়ে গেরুয়া আবির খেলে অকাল হোলিতেও মাতলেন বিজেপি কর্মীরা।
কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি— বাংলার সব জায়গায়ই গেরুয়া আবিরের চাহিদা তুঙ্গে। বিকালের পর সব জায়গায়ই গেরুয়া আবির খেলে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন বিজেপির নেতাকর্মীরা। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় নবান্নের সামনে গেরুয়া পতাকা নিয়েও পৌঁছে যান বিজেপি কর্মীরা। সেখানেও গেরুয়া আবির খেলেন তারা।
তবে, বিজেপির জয়ের খবর আসতেই বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি স্থান থেকে সংঘর্ষেরও খবর পাওয়া গেছে। পানিহাটি, সল্টলেকে বিক্ষিপ্তভাবে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি ও তৃণমূলের সমর্থকরা। যদিও কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় খুব বেশি দূর গড়ায়নি সংঘর্ষ।
কর্মীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বললেন, ‘বিজয় মিছিলের নাম করে কোথাও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা করা যাবে না। তৃণমূলের সমর্থকরা অশান্তি পাকালে পুলিশের কাছে নালিশ করুন।’
বিজেপির সংস্কৃতিতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে কিছু নেই— জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা বিপ্লব দেব। তাই সবাইকে শান্ত থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।



