পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পুনর্নির্বাচন

ছবি: আগামীর সময়
৪ মে অর্থাৎ সোমবার পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা। আর তার মধ্যেই দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে অভূতপূর্ব এক সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। ওই কেন্দ্রে ২৯ এপ্রিল যে ভোটগ্রহণ হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ বাতিল করে নতুন ভোট নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে শনিবার। নির্বাচন কমিশনের এ পদক্ষেপ সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ফলে নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী ২১ মে ফলতার ২৮৫টি ভোটকেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হবে এবং ২৪ মে গণনা সম্পন্ন হবে। ফলে সোমবার ফলতা বাদ দিয়ে রাজ্যের বাকি ২৯৩টি আসনে হবে ভোটগণনা ।
শনিবার রাতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নির্বাচন কমিশন জানায়, ফলতার একাধিক বুথে গুরুতর নির্বাচনী অনিয়ম এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভঙ্গের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই কারণেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে গোটা কেন্দ্রের ভোট বাতিলের। ভোটের দিন ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ওঠে এবং পুনর্নির্বাচনের দাবিও জানানো হয়।
এই পরিস্থিতিতে কমিশনের নির্দেশে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে ফলতা, মগরাহাট ও ডায়মন্ড হারবারে গিয়ে তদন্ত করেন। আর তার প্রতিবেদনে ফলতার একাধিক বুথে অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানালেন, প্রায় ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ করা হয়েছিল। তদন্তে উঠে আসে, কিছু বুথে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল ক্যামেরা । যার ফলে কন্ট্রোল রুমে কোনো তথ্য পৌঁছায়নি। আবার কোথাও ইভিএমে টেপ লাগিয়ে বিভিন্ন দলের প্রতীক ঢেকে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে বলে জানা যায়। ফলে সেই ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত গোটা কেন্দ্রেই নেওয়া হয় পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে, ৪ মে ভোট গণনাকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে এবং ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। স্ট্রং রুম পাহারায় থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশও থাকবে বলে জানা যায়।
গণনার দিন প্রক্রিয়া শুরু হবে সকাল ৮টা থেকে। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট, তারপর ইভিএমের ভোট গণনা হবে। কয়েক দফায় গণনা চলার পর দুপুরের মধ্যেই সম্ভাবনা রয়েছে প্রাথমিক ফল সামনে আসার।



