বিজয়কে ঠেকাতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের একাট্টা হওয়ার গুঞ্জন

সংগৃহীত ছবি
থালাপাতি বিজয়ের তামিলগা ভেট্টি কাজাগম (টিভিকে) যখন মিত্র জোগাড় করে তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে, তখন দ্রাবিড়া মুন্নেত্র কাজাগম (ডিএমকে) তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী এআইএডিএমকের সঙ্গে শুরু করেছে গোপন আলোচনা। সূত্রের বরাত দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে।
দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত দুই দলের মধ্যে এটি বিরল পদক্ষেপ।
এআইএডিএমকে সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আলোচনা হয়েছে, তবে এখনো কোনো অগ্রগতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এখন বড় প্রশ্ন হলো, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নজিরবিহীন পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ডিএমকে এই জোটে যোগ দিতে রাজি হবে কি না।
২৩ এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে ডিএমকে ৫৯টি আসন পেয়েছে আর এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি।
তবে এখানে একটি জটিলতা রয়েছে, ডিএমকে ও এআইএডিএমকে একসঙ্গে এলেও তাদের মোট ১০৬ জন বিধায়ক সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট হবে না। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। ফলে আলোচিত জোট বাস্তবায়িত হলে উভয় দলকেই নিতে হবে ছোট দলগুলোর সমর্থন।
১৯৭২ সালে এমজি রামাচন্দ্রন বা এমজিআরকে দলীয় দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিরোধের জেরে তৎকালীন সভাপতি এম করুণানিধি ডিএমকে থেকে বহিষ্কার করার পর এআইএডিএমকে গঠিত হয়। এ বিভাজনই দুই দ্রাবিড় দলের মধ্যে কয়েক দশকব্যাপী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভিত্তি তৈরি করে, যা তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনকে সংজ্ঞায়িত করেছে।
অন্যদিকে বিজয় সরকার গঠনের দাবি জানাতে আজ তামিলনাড়ুর গভর্নর রাজেন্দ্র আরলেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, তিনি মাত্র ১১২ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা দেওয়ায় তাকে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের প্রমাণ নিয়ে আবার আসতে বলা হয়। যদিও তার কংগ্রেসের সমর্থন রয়েছে, যাদের পাঁচজন বিধায়ক আছেন। বিজয় নাকি বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন এবং পরে প্রয়োজনীয় সংখ্যা নিশ্চিত করতে সময় চান।
টিভিকে তাদের প্রথম নির্বাচনে চমক দেখিয়ে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি জিতলেও এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে ১০টি আসন পিছিয়ে রয়েছে আর মিত্র দলগুলোও এখনো দৃঢ়ভাবে সমর্থন দেয়নি। সম্ভাব্য ‘কিংমেকার’ হিসেবে বিবেচিত বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাছি (ভিসিকে) বৃহস্পতিবার তাদের অবস্থান নির্ধারণের জন্য নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেছে।
বামপন্থী দলগুলো তাদের সিদ্ধান্ত ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছে এবং এখনো সমর্থন দেয়নি। এ দুই দল ও ভিসিকে ডিএমকে-নেতৃত্বাধীন সেক্যুলার প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সের অংশ এবং সূত্রগুলো বলছে ডিএমকে এখনো আত্মবিশ্বাসী যে তারা পক্ষ পরিবর্তন করবে না।
অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিীগ (আইইউএমএল) ও বাম দলগুলো এর আগে টিভিকের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছিল। একই সময়ে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের মধ্যে গোপন আলোচনার নতুন গুঞ্জন ছোট দলগুলোকে, বিশেষ করে ভিসিকেকে আপাতত বাধ্য করেছে অপেক্ষার অবস্থানে থাকতে।



