পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ফল কাল
জিততে না পারলে হিংসার ছক বিজেপির!

সংগৃহীত ছবি
বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ হবে আগামীকাল সোমবার। কিন্তু এই চূড়ান্ত মুহূর্তের আগে রাজ্য জুড়ে ঘনিয়ে আসা এক থমথমে পরিস্থিতি জন্ম দিচ্ছে নতুন আশঙ্কার। একদিকে দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্যের সাবধানবাণী— যাতে জয়ের পর কর্মীরা হিংসার আশ্রয় না নেন। এটি স্রেফ সৌজন্য বলে মনে হচ্ছে না অনেকের কাছেই। বরং, অভিজ্ঞ মহলের একাংশ একে দেখছে ঝড়ের আগের সতর্ক সংকেত হিসেবে।
তাদের দাবি, শমিক আসলে দলের মেজাজটা জানেন। যদি ফল অনুকূলে না যায়, তবে সেই পরাজয়ের আক্রোশ যাতে দাঙ্গা বা বড় কোনো অস্থিরতায় রূপ না নেয়, তারই আগাম সাফাই বা সাবধানতা রয়েছে এই মন্তব্যে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো রাজ্যে মোতায়েন করা বিশাল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করছেন আড়াই লাখ কেন্দ্রীয় জওয়ান। বিরোধীদের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, এ বাহিনীর একাংশ পরোক্ষভাবে বিজেপির প্রতি নমনীয়। সোমবার ফল প্রকাশের দিন যদি কোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে এই বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা বা একতরফা ভূমিকা বড় কোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়ে দিতে পারে কি না, এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই প্রশ্ন।
বিশেষ করে যখন শমিক বলেছেন যে, ‘অবাঞ্ছিত লোকজন’ জড়ো করে গণনায় গণ্ডগোল করা যাবে না, তখন পাল্টা প্রশ্ন উঠছে— তবে কি বিজেপি নিজেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ছায়ায় প্রদর্শনের প্রস্তুতি সেরে রেখেছে কোনো পেশিবল?
আগামীকাল সকাল ৮টায় চূড়ান্ত তৎপরতা শুরু হবে রাজ্যের সব গণনাকেন্দ্রে। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, রাজ্য জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে কয়েকশ অতিরিক্ত অবজারভার এবং মাইক্রো-অবজারভার। গণনাকেন্দ্রগুলোতে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তাবলয় থাকছে, যেখানে ইনার কর্ডন বা একদম ভেতরের স্তরে থাকছে আধাসামরিক বাহিনী। ইভিএম রাখা স্ট্রং রুমের সুরক্ষা থেকে শুরু করে গণনা টেবিলের নজরদারি— সবটাই এখন তাদের হাতে। প্রতিটি রাউন্ড শেষে ফল প্রকাশের সময়, এই স্পর্শকাতর জায়গাগুলোতেই অশান্তির আঁচ সব থেকে বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা।
এই রাজনৈতিক দাবা খেলার কেন্দ্রে রয়েছে হাই-প্রোফাইল লড়াই। বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর মুখোমুখি টক্কর। একসময়কার সতীর্থ এবং বর্তমানের কট্টর প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু দাবি করেছেন, তিনি অন্তত ২০ হাজার ভোটে পরাজিত করবেন মুখ্যমন্ত্রীকে।
তার এই আত্মবিশ্বাস আর অন্যদিকে তৃণমূলের ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ গণনাকেন্দ্রের বাইরেও ছড়িয়ে দিতে পারে উত্তেজনা। এই দুই হেভিওয়েটের লড়াইয়ের ফল যাই হোক না কেন, তা গোটা রাজ্যে দাউদাউ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য হয়ে থাকতে পারে যথেষ্ট বারুদ।
শেষ পর্যন্ত সোমবার বিকাল কী বার্তা নিয়ে আসবে তা বলবে সময়। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর বিজেপির এই তথাকথিত ‘আস্থা’ আর নেতাদের আগাম সতর্কবার্তা কি আসলে কোনো গভীর নীলনকশার অংশ? নাকি পরাজয় নিশ্চিত জেনে ক্ষমতা প্রদর্শনের শেষ মরিয়া চেষ্টা? বাংলার সাধারণ মানুষ এখন শুধু এটাই প্রার্থনা করছেন যে, গণতন্ত্রের উৎসব যেন পরিণত না হয় রক্তের হোলি খেলায়। গণনাকেন্দ্রে নিরাপত্তা যতই আঁটসাঁট হোক, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার যে চোরাস্রোত বইছে, তাকে আটকানোই হবে আগামীকালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।



