মার্কিন হামলায় ইরানি জাহাজডুবিতে চাপে পড়বে ভারত

সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে নতুন করে চাপে ফেলতে পারে বলে মনে করছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।
ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের ভূরাজনৈতিক অর্থনীতি বিশ্লেষক চেতনা কুমার ও অ্যাডাম ফারার এক বিশ্লেষণে বলেছেন, ঘটনাটি ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কে টানাপড়েনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্বস্তিও বাড়াতে পারে। তাদের মতে, এই হামলা একটি অস্বস্তিকর দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে, যা যুদ্ধ ইস্যুতে ভারত ও শ্রীলঙ্কা—দুই দেশের সরকারের ওপরই রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। তবে এটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত হিসেবে তারা দেখছেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, ঐতিহাসিকভাবে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিষয়ে স্পষ্ট নিন্দা না করায় দেশে সমালোচনার মুখে পড়েছে মোদি সরকার। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা, বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি, নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ–সংক্রান্ত স্বার্থ রক্ষার মতো বিষয় বিবেচনায় রেখেই নয়াদিল্লি সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও নানা কারণে পরীক্ষা দিচ্ছে। বিশেষ করে কঠিন শুল্ক আলোচনা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সময় স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। তাছাড়া ঘটনাটি যেহেতু শ্রীলঙ্কার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাছে ঘটেছে, তাই প্রকাশ্যে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখার সুযোগ পাচ্ছে ভারত। তবে যে এলাকায় ভারত ও শ্রীলঙ্কা নিয়মিত যৌথ নৌ টহল পরিচালনা করে, সেই এলাকায় একটি মার্কিন সাবমেরিনের উপস্থিতি দিল্লির কৌশলগত মহলে উদ্বেগ বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের ফ্রিগেট ‘আইআরআইএস দেনা’ বুধবার দেশটির উপকূলের কাছে ডুবে যায়। এতে অন্তত ৩২ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, আর শতাধিক নাবিক নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন সাবমেরিন হামলা চালিয়ে জাহাজটি ডুবিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন সাবমেরিন ভূপৃষ্ঠে থাকা একটি জাহাজে হামলা চালাল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের এই যুদ্ধজাহাজটি ভারত সফর করেছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়াসহ প্রায় ৪০টি দেশের নৌযানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউতেও অংশ নেয় জাহাজটি।

