হরমুজ ইস্যু
ইরানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র-বাহরাইন, জাতিসংঘে শুরু আলোচনা

সংগৃহীত ছবি
ইরানের হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও হুমকি বন্ধ না করলে তেহরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের অনুমতি চায় যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইন। এ সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানাচ্ছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রস্তাবে নিন্দা জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, তেহরানকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করা এবং সমুদ্রে পাতা মাইনের অবস্থান প্রকাশের দাবিও। ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে মানবিক করিডর গড়ে তুলতে জাতিসংঘের সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বানও রাখা হয়েছে প্রস্তাবে।
কূটনৈতিক সূত্র জানাচ্ছে, নতুন খসড়াটি তৈরি করা হয়েছে সতর্কতার সঙ্গে। এতে সরাসরি শক্তি প্রয়োগের কথা উল্লেখ না থাকলে, আনা হয়েছে জাতিসংঘ সনদের অধ্যায় সাতের অধীনে। ফলে নিষেধাজ্ঞা জারি থেকে শুরু করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা পর্যন্ত ব্যবহার করা সম্ভব।
বিশ্বের জ্বালানি ও বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে ঘটেছে গোলাগুলির ঘটনা। চার সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এ সংঘাত আরও জটিল করে তুলেছে পরিস্থিতি। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি নৌ অবরোধও বাড়িয়েছে উত্তেজনা।
সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা আগের অবস্থান থেকে ভিন্ন। এতদিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের বাইরে থেকেই চালিয়ে আসছিল সামরিক অভিযান এবং মিত্রদের নিজস্ব তদারকিতে নৌ টহলে অংশ নিতে দিচ্ছিল চাপ। অনির্দিষ্ট সংঘাত ও আইনি জটিলতার আশঙ্কায় এতে সাড়া দেয়নি অনেক দেশ। এ নিয়ে মিত্রদের কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবারের উত্তেজনার পর ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি উদ্যোগ ঘোষণা করে ট্রাম্প প্রশাসন। এর লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ট্যাংকার ও অন্যান্য জাহাজ সরিয়ে নেওয়া। একই সময়ে ওয়াশিংটন তাদের মিত্রদের কাছে পাঠিয়েছে ‘ম্যারিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট’ নামে একটি বহুজাতিক নৌ জোট গঠনের প্রস্তাব। এর উদ্দেশ্য যুদ্ধ–পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হরমুজে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনা।
এর আগে বাহরাইনের আনা অনুরূপ একটি প্রস্তাব রাশিয়া ও চীনের আপত্তিতে পাস হয়নি। এবার নতুন খসড়া প্রস্তাবটি তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ করে আনা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওয়াশিংটনে ৮ মে-এর মধ্যে চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করে পরবর্তী সপ্তাহের শুরুতে ঠিক করেছে ভোটাভুটির লক্ষ্য। তবে রাশিয়া ও চীনের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রস্তাব বিবেচনায় থাকায় আলোচনা কতটা দ্রুত এগোবে, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।
এদিকে এমএফসি জোট গঠনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই জোট প্রায় ৩০টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত একটি ফরাসি-ব্রিটিশ নৌ মিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
ফরাসি-ব্রিটিশ উদ্যোগটি মূলত যুদ্ধ শেষে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার পরিকল্পনা। তবে অনেক দেশ সামরিক সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সরাসরি ম্যান্ডেটের পক্ষেই নিয়েছে অবস্থান। কূটনৈতিক একটি অনানুষ্ঠানিক নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এমএফসি স্বাধীনভাবে কাজ করলেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য টাস্কফোর্সের সঙ্গে বজায় রাখবে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়।



