ট্রাম্পের ‘অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার মানে কী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার ফল না আসা পর্যন্ত এই ঘোষণা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর কোনো অনুরোধ করেনি ইরান।
ট্রাম্পের অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার পেছনে একাধিক সম্ভাব্য ব্যাখ্যা থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুদ্ধ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত
প্রথম ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কার্যত যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি ট্রাম্প। যুদ্ধে সব কৌশল প্রয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবুও সফলতা না আসায় তিনি বুঝতে পেরেছেন, সামরিক পথে কিছু অর্জন সম্ভব নয়। তাই সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে বেছে নিতে পারেন যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসাকেই। এমনকি যুদ্ধ চালিয়ে গেলেও তাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য মিলবে না বলেও ধারণা তার।
কৌশলগত প্রতারণার আশঙ্কা
যুদ্ধ থেকে সরাসরি কোনো সাফল্য না পেলেও যুক্তরাষ্ট্র বেছে নিতে পারে বিভিন্ন কৌশল। এমনকি প্রতারণামূলক পদক্ষেপও। যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা হতে পারে তারই একটি অংশ। একদিকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বা তার আঞ্চলিক মিত্র ইসরায়েল গোপনে চালাতে পারে সামরিক বা সন্ত্রাসী তৎপরতা।
তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের সম্ভাবনার ওপর সতর্ক নজর রাখছেন এবং এটিকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না ইরানি কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানো, ইসরায়েলের অব্যাহত যুদ্ধ
আরেকটি সম্ভাবনা হলো, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়ালেও সংঘাতে রেখে দিতে পারে ইসরায়েলকে। বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অজুহাতে। তবে এ ক্ষেত্রে আগেই সতর্ক করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। একতরফাভাবে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইসরায়েলকে সংঘাতে রেখে দিতে পারবে না তারা।
নৌ অবরোধ চললে শত্রুতা অব্যাহত
নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকা মানেই শত্রুতাও চলমান বলে জানিয়েছে ইরান। যতদিন এই অবরোধ থাকবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগ করে এই অবরোধ ভেঙে দেবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান।
যুদ্ধের ছায়া ধরে রাখার যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল
আরেকটি বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, ইরানের ওপর যুদ্ধের চাপ ও অনিশ্চয়তা বজায় রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। যাতে অস্থির অবস্থায় থাকে ইরানের অর্থনীতি ও রাজনীতি। যুক্তরাষ্ট্র হয়তো মনে করছে বর্তমান পরিস্থিতি আগের ১২ দিনের যুদ্ধ-পরবর্তী অবস্থার মতোই। তবে ইরানের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির বড় পার্থক্য হলো হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ। যদি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ছায়া বজায় রাখতে চায়, তবে সম্পূর্ণ বন্ধই থাকবে এই প্রণালি।



