ওয়াশিংটনে বৈঠক আজ
লেবানন-ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে পারে হিজবুল্লাহও

প্রথম দফায় যুদ্ধবিরতির পর লেবাননের রাস্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও হিজবুল্লাহ পতাকা হাতে একটি পরিবার। ফাইল ছবি
ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় ১৬ এপ্রিল দশ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় লেবানন ও ইসরায়েল। সে হিসেবে এর মেয়াদ আছে ৭২ ঘণ্টারও কম। এমন বাস্তবতায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে আজ আবারও আলোচনায় বসতে যাচ্ছে দুপক্ষ। বৈরুত ও তেল আবিবের পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও মেনে নিতে পারে নতুন শান্তি প্রস্তাব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি দাবি করেছে, ওয়াশিংটনে আজ আবারও বসবে ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতৃত্ব। লেবানিজ প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও একমাস বাড়ানোর প্রস্তাব দিতে পারেন। যেখানে পরোক্ষভাবে আলোচনায় থাকবে হিজবুল্লাহ। আলোচনায় কোনো শান্তি প্রস্তাব নেওয়া হলে তা মেনেও নিতে পারে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি।
হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবাননের অধিকাংশ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে। গোষ্ঠীটির দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র তেলআবিবকে নিয়ে ইরানে হামলা চালায়। মার্চের শুরুতে তেহরানের পক্ষ নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে গোষ্ঠীটি। এর জবাবে প্রথমে দক্ষিণ লেবাবন ও পরে রাজধানী বৈরুতসহ দেশজুড়ে নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৪০ দিনের যুদ্ধবিরতির পর থামে ইসরায়েল-লেবানন সংঘাত।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বুধবার বলেছেন, লেবাননের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো বড় ধরনের মতবিরোধ নেই। হিজবুল্লাহকে শান্তি ও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে বাধা বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
১০ দিনের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে। বুধবার লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিলসহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছে ইসরায়েল। আজ সকালেও ইসরায়েলি দখলে থাকা দক্ষিণ লেবাননের এলাকাগুলোতে লেবানিজদের বাড়িঘর ধ্বংস করছে।
লেবাননের কর্তৃপক্ষের মতে, মার্চের শুরুতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২,৪৫৪ জন বাসিন্দা নিহত হয়েছেন।



