শেষ বক্তব্যে নেতানিয়াহুর উদ্দেশে যা বলেছিলেন আইআরজিসি মুখপাত্র

সংগৃহীত ছবি
ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়িনি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই খবর নিশ্চিত করেছে। তবে তার মৃত্যু নিয়ে এখনো রহস্য ও ধোঁয়াশা কাটছে না।
গতকাল রাতে তেহরান, কারাজ, কেরমান এবং কাশান শহরে ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, এই অভিযানেই ৬৮ বছর বয়সী জেনারেল নায়িনি নিহত হন। কিন্তু নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে তার একটি বক্তব্যকে ঘিরে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার প্রচারের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই তার মৃত্যুর খবর আসে। তিনি ওই বক্তব্য দেওয়ার পর হামলার শিকার হয়েছেন, নাকি আগেই নিহত হয়েছেন—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নিহত হওয়ার ঠিক আগে প্রচারিত সেই বক্তব্যে জেনারেল নায়িনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন যে, ইরান আর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সক্ষম নয়। এর জবাবে নায়িনি বলেছিলেন, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা পূর্ণমাত্রায় রয়েছে। আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের স্কোর ২০-এ ২০ (ইরানি শিক্ষাব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নম্বর)। উদ্বেগের কোনো কারণ নেই, মজুতও পর্যাপ্ত।’
কাশান শহরে জন্ম নেওয়া এই জেনারেল ২০২৪ সালে আইআরজিসির মুখপাত্র নিযুক্ত হয়েছিলেন। তার শেষ বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, শত্রুরা পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।
বর্তমানে তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং জেনারেল নায়িনির এই মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

