যুদ্ধবিরতি ভাঙনের মুখে, গাজায় হামলার প্রস্তুতি ইসরায়েলের

হামাসকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে অবরুদ্ধ উপত্যকায় নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের হুমকি দিচ্ছে ইসরায়েল।
গাজা উপত্যকায় গত অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়তে পারে যেকোনো সময়। হামাসকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে অবরুদ্ধ উপত্যকায় নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের হুমকি দিচ্ছে ইসরায়েল। এরই মধ্যে গাজায় সেনা উপস্থিতি বাড়িয়েছে দেশটি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামাস নিরস্ত্রীকরণে রাজি না হওয়ায় গাজায় আবার লড়াই শুরু করা এখন অনিবার্য। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ হওয়া এই সম্ভাবনা আরও জোরালো হচ্ছে।
ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ভেতরে তাদের নিয়ন্ত্রিত ইয়েলো লাইন ক্রমাগত পশ্চিম দিকে সরিয়ে নিচ্ছে। বর্তমানে উপত্যকাটির প্রায় ৫৯ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে।
লেবানন সীমান্ত থেকে অতিরিক্ত সৈন্য গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে সরিয়ে এনে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে এই দখলদারিত্বকে।
হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত রবিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করে ছোট পরিসরে জরুরি পরামর্শ বৈঠক করেছেন।
সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর জন্য সরকারের ওপর চাপ তীব্র করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অক্টোবরে নির্বাচনের আগে নিজের অবস্থান শক্ত করতে নেতানিয়াহু এই যুদ্ধের হুমকিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে দীর্ঘ লড়াইয়ে ক্লান্ত ইসরায়েলি রিজার্ভ সৈন্যদের জন্য নতুন একটি ফ্রন্ট খোলা কৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি চলাকালেও ইসরায়েলি হামলায় ৮২৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৬০৮-তে।
নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে এই মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, মিসরের কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীরা মার্কিন সমর্থিত একটি নতুন রোডম্যাপ বাস্তবায়নে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এই প্রস্তাবে ২৮১ দিনের মধ্যে হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের শর্ত দেওয়া হয়েছে।
তবে হামাস, ইসলামিক জিহাদ, পিএফএলপিসহ ফিলিস্তিনি দলগুলো এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
হামাস পলিটব্যুরোর সদস্য আবদুল জব্বার সাইদ জানিয়েছেন, ইসরায়েল যেখানে প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক ত্রাণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না, সেখানে নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নই ওঠে না।
সূত্র : আলজাজিরা।






