নেতাদের হারিয়েও লড়ে যাচ্ছে ইরান

সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ইতিহাসে অনেক রাষ্ট্র এসেছে, ধ্বংস হয়েছে, আবার নতুন করে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু চলমান সংঘাতে ইরান যেন অন্য এক অধ্যায় লিখছে। যেখানে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকেও ভেঙে না পড়ে আরও শক্ত হয়ে উঠছে শাসনব্যবস্থা।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলা আঘাত হানে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতেই। সেই হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই তখন ধারণা করেছিলেন, এটাই হয়তো ইরানের পতনের সূচনা। কিন্তু বাস্তবতা পাল্টে দিয়েছে তাদের সেই ধারণাকে। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান।
চলমান সংঘাতে একের পর এক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার, গোয়েন্দা প্রধান এবং কৌশলগত নেতৃত্ব হারিয়েও টিকে আছে ইরান। শুধু টিকে থাকা নয়, চালিয়ে যাচ্ছে পাল্টা প্রতিরোধ ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারও। ইরান শেষ হয়নি, বরং এখনও অটুট করেছে তাদের শাসনব্যবস্থা।
বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেন মোজতবা খামেনি। তিনি বর্তমানে অচেতন অবস্থায় পবিত্র নগরী কোমে চিকিৎসাধীন।
শীর্ষ নেতৃত্ব হারিয়েও কেন স্থিতিশীল ইরান?
ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোকে অনেক বিশ্লেষক তুলনা করেন বহুস্তরবিশিষ্ট এক দুর্গের সঙ্গে। যেখানে একজন নেতা পতন মানেই পুরো ব্যবস্থার পতন নয়। দেশটির শাসনব্যবস্থা একদিকে ধর্মীয় নেতৃত্ব, অন্যদিকে সামরিক ও প্রশাসনিক শক্তির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে।
ইরানের নেতৃত্বের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে শাসনকাঠামো। বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর বা সমান্তরাল রাষ্ট্রকাঠামোর ওপর। রাজনৈতিক কাঠামো অনেকটা বহুস্তরবিশিষ্ট দুর্গের মতো। একজন নেতার পতন হলেও পুরো ব্যবস্থাটি ধসে পড়ে না।
যদিও সর্বোচ্চ নেতা এখানে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। তবুও একটি সমান্তরাল রাষ্ট্রকাঠামো এখানে বিদ্যমান। সেটি হলো ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর’ আইআরজিসি। আর আইআরজিসি এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যার ক্ষমতা কেবল প্রথাগত সামরিক ম্যান্ডেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
চলমান এ যুদ্ধে এবং গত বছরের জুনে ১২ দিনে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের সময় আইআরজিসির বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কমান্ডার নিহত হয়েছেন।
কিন্তু আইআরজিসি বারবারই বলে আসছে যে, তাদের কেউ নিহত হলে সেই পদে স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য অন্য আরেকজন সবসময় প্রস্তুত থাকেন।
এছাড়া আইআরজিসি আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’কে নিয়ন্ত্রণ করে, যা প্রায় ১০ লাখ সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবী মিলিশিয়া বাহিনী।
নেতৃত্বে শূন্যতা, তবুও যুদ্ধযন্ত্র সচল
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ প্রায় ৪০ জন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা।
এরপরের দিনগুলোতে ধারাবাহিক হামলায় নিহত হয়েছেন প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা, ক্ষেপণাস্ত্র, লজিস্টিকস এবং কুদস ফোর্সের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।
এই তালিকা দেখলে মনে হতে পারে রাষ্ট্রযন্ত্র প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, কাঠামো অক্ষত থাকায় সেই শূন্যতা দ্রুত পূরণ হচ্ছে। ইরান যেন একধরনের হাইড্রা (বহুমস্তকবিশিষ্ট কাল্পনিক গ্রিক দৈত্য)—একটি মাথা কাটা পড়লে আরেকটি মাথা গজিয়ে ওঠে।
ইরান যুদ্ধে নিহত শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের তালিকা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রাথমিক বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ নিহত হন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি শামখানি, আইআরজিসি গ্রাউন্ড ফোর্সের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, ইরানি সেনাবাহিনীর প্রধান আব্দোলরহিম মুসাভি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা আজিজ নাসিরজাদেহ, সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিরাজি, সামরিক গোয়েন্দা প্রধান সালেহ আসাদি, পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা হোসেইন জাবাল আমেলিয়ান, প্রতিরক্ষা গবেষণা নেটওয়ার্ক প্রধান রেজা মোজাফফারি-নিয়া, সামরিক লজিস্টিকস কমান্ডার মোহসেন দারেবাঘি, পুলিশ গোয়েন্দা প্রধান ঘোলামরেজা রেজায়িয়ান ও সামরিক অপারেশনস কমান্ডের কর্মকর্তা বাহরাম হোসেইনি মোতলাগ।
নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার পরদিনই গত ৩ মার্চ নিহত হন মাজিদ ইবন আল-রেজা। বৈরুতে আইআরজিসি কুদস ফোর্স লক্ষ্য করে হামলায় নিহত হন আইআরজিসি কুদস ফোর্সের সদস্য রেজা খাজায়ি।
৮ মার্চ বৈরুতে নিহত হন মাজিদ হাসিনি, বৈরুতে আইআরজিসির শীর্ষ কর্মকর্তা হোসেইন আহমদলু। আইআরজিসি ফিলিস্তিন কর্পস লক্ষ্য করে হামলায় নিহত হন আইআরজিসি গোয়েন্দা কর্মকর্তা আলি রেজা বি-আজার, আইআরজিসি প্যালেস্টাইন কর্পসের সদস্য আহমদ রাসৌলি।
গত ১২ মার্চ বৈরুতে আইআরজিসি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটে হামলায় নিহত হন আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের কমান্ডার আবু ধর মোহাম্মাদি।
গত ১৭ মার্চ তেহরানের একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থলে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন আলি লারিজানি। অস্থায়ী সদর দপ্তরে হামলায় নিহত হন ঘোলামরেজা সোলেইমানি।
এপ্রিল মাসের হামলায় নিহত আইআরজিসি গোয়েন্দা নেতৃত্বের সদস্য মাজিদ খাদেরমি। একই হামলায় নিহত কুদস ফোর্সের অপারেশনস প্রধান আসগর বাঘেরি।
এই তালিকা থেকে বোঝা যায়, যুদ্ধের প্রথম মাসেই প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো। আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ সব শীর্ষ নেতা না থাকলেও ইরান আত্মসমর্পণ করেনি। ইরান এখন মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বিপজ্জনক সত্তা। যতক্ষণ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো টিকে থাকবে, ততক্ষণ যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
মিত্র দেশগুলোই কেন ইরানের হামলার শিকার?
ইরান সরাসরি শুধু ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে দিয়েছে সংঘাতের পরিধি। ইসরায়েলের শহরগুলোর পাশাপাশি বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের লক্ষ্য আরব দেশগুলো নয়, বরং সেই সব মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামো, যেগুলো এই যুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এটি মূলত একটি কৌশল—যুদ্ধকে বহুমুখী করে প্রতিপক্ষকে ছড়িয়ে দেওয়া এবং চাপ বাড়ানো।
এদিকে গত ৩০ মার্চ তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শুরুর পর থেকে তুরস্কে চার দফা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এরমধ্যে চতুর্থ দফার হামলা ন্যাটো বাহিনী আটকে দিয়েছে।
তবে তুরস্কের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বিষয়টি যৌথভাবে তদন্ত করার প্রস্তাব দেন।
এর আগে ২১ মার্চ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত একটি আঞ্চলিক সম্মেলন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় দেশগুলো পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলো তেহরানকে তাদের শেষ সতর্কতা জারি করেছে।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক ‘চোক পয়েন্ট’ হরমুজ প্রণালী
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা হরমুজ প্রণালী এখন এই যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মাত্র ২৪ মাইল চওড়া এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। যুদ্ধের কারণে এই পথ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন সবকিছু মিলিয়ে এটি এখন একটি বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিচ্ছে।
ওমান ইতোমধ্যে এই প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পথ খুলে দেওয়া এখন আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার।
ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। তারা আবার হরমুজ প্রণালী চালুর বিষয়ে সম্ভাব্য বিভিন্ন ‘বিকল্প’ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব, প্রত্যাখ্যান ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র বারবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবে স্পষ্ট করা হয়েছে। তারা সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, স্থায়ী সমাধান চায়।
পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে কিছু শর্ত দিয়েছে তেহরান। ইরানি বার্তাসংস্থা ইসনা মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, মার্কিনিদের প্রস্তাবের ব্যাপারে ইরান পাকিস্তানের কাছে তার জবাব দিয়েছে। জবাবটি দেওয়া হয়েছে ১০টি আলাদা পয়েন্টে। এতে ইরান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধের ওপর জোর দিয়েছে।
সঙ্গে এই অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচলে একটি প্রটোকল নিশ্চিত করতে হবে। ইরানকে পুনর্গঠন এবং আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে দিতে হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস দুই ইরানি কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, ইরান তার জবাবে গ্যারান্টি চেয়েছে ভবিষ্যতে তাদের ওপর কোনো ধরনের হামলা হবে না এবং লেবাননে তাদের মিত্র হিজবুল্লাহর ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চায়, যাতে আলোচনার টেবিলে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত ইরানকে সময় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে তাদের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে ইরানকে। নয়তো তাদের ব্রিজ ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭ যুদ্ধবিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রও অপ্রত্যাশিত ক্ষতির মুখে পড়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত সাতটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। সর্বশেষ দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর মোট ধ্বংস হওয়া মার্কিন বিমানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত সাতটিতে। একটি এফ-৩৫ ও একটি এ-১০ শুক্রবার পৃথক ঘটনায় ধ্বংস হয়।
এর আগে সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায়ে আরও পাঁচটি বিমান হারিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী।
গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ফ্রেন্ডলি ফায়ার বা নিজস্ব বাহিনীর ভুলবশত হামলায় তিনটি এফ-১৫ ভূপাতিত হয়। সৌভাগ্যবশত ছয়জন ক্রু সদস্যই নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।
১২ মার্চ ইরাকে একটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার প্লেন বিধ্বস্ত হলে ছয়জন মার্কিন বিমানকর্মীর মৃত্যু হয়। মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, এটি শত্রুপক্ষের হামলায় নয়, বরং অপারেশনের সময় অন্য একটি বিমানের সঙ্গে ঘটনার জেরে দুর্ঘটনা ঘটে।
২৭ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে ইরানের হামলায় একটি ই-৩ সেন্ট্রি মাটিতেই ধ্বংস হয়। এতে অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনা আহত হন। একই হামলায় একটি ট্যাংকার বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এছাড়া একটি এফ-৩৫ ইরানের সম্ভাব্য হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয় বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধবিমানের এমন ধারাবাহিক ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। এটি আকাশযুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।



