আগামীর সময়

আইআরজিসি

সৌদি-কুয়েতে ঘাঁটিতে হামলা, বহু মার্কিন সেনা নিহতের দাবি

সৌদি-কুয়েতে ঘাঁটিতে হামলা, বহু মার্কিন সেনা নিহতের দাবি

সংগৃহীত ছবি

অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪ এর ৮৪তম ধাপের অভিযানে সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনায় সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করল ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। কুয়েতের ঘাঁটিতে হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন মেরিন সেনা নিহত হয়েছে বলেও দাবি।

প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটনের বেশ কিছু জ্বালানি সরবরাহকারী যান ও তাদের লজিস্টিক বহর সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ‘সন্ত্রাসী মার্কিন শাসনগোষ্ঠী আমাদের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক বিমানঘাঁটিগুলো ব্যবহার করায় আইআরজিসি বিমান ও নৌবাহিনী যৌথভাবে এই বিশেষ মিসাইল ও ড্রোন অভিযান চালিয়েছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমাদের বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে সফলভাবে আল-খারজ ঘাঁটিতে প্রবেশ করেছে। সেখানে অবস্থানরত জ্বালানি সরবরাহকারী ও আকাশপথের সহায়তাকারী বিমান বহরের ওপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সরাসরি হামলা করায় শত্রুর বেশ কয়েকটি বড় আকারের জ্বালানি সরবরাহকারী ও সাহায্যকারী বিমান ধ্বংস অথবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

অন্য এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে ‘মার্কিন-জায়নিস্ট সন্ত্রাসীদের' বেশ কয়েকটি আস্তানা লক্ষ্য করে আকস্মিক ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতি অনুযায়ী, এই অভিযানে বিভিন্ন ধরণের শক্তিশালী ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করে বিপুল সংখ্যক মার্কিন মেরিন সেনাকে হত্যা করা হয়েছে। আহতদের সালেহ আল-সাবাহ, মোহাম্মদ আল-আহমদ ও আলী আল-সালেম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই হাসপাতালগুলো বর্তমানে সম্পূর্ণ কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে। এমনকি কুয়েতি রোগীদের ভর্তি বা ছাড়পত্র দেওয়াও বন্ধ রাখা হয়েছে যাতে কেবল আহত সেনাদের চিকিৎসা করা যায়। এ বিষয়টি কুয়েতের সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে।

ইরানি সশস্ত্র বাহিনী এ পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা ও পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র দিয়ে ৮৩টি ধাপে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলি জোটের অতর্কিত হামলার জবাবেই এই পাল্টা অভিযান শুরু করা হয়। উল্লেখ্য যে, ওই হামলায় ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি, বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার ও মিনাব শহরের ১৭০ জনের বেশি স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হয়।

লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সও এই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফ্রন্টে যোগ দিয়েছে। তারা শত্রুপক্ষকে বড় ধরণের আঘাত হেনেছে। ইরানি সশস্ত্র বাহিনী ও এসব প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সম্মিলিত হামলায় শত্রুর সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি প্রেস টিভির।

    শেয়ার করুন: