হরমুজের তলদেশে সাইবার কেবলের ছবি প্রকাশ
আরব বিশ্বকে সাইবার স্পেস থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচ্ছন্ন হুমকি ইরানের

প্রতীকী ছবি
হরমুজ প্রণালিকে সবাই বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে মেনে থাকে। কিন্তু ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম দাবি করেছে, এ প্রণালির তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন কেবলের সংযোগ গেছে পার্শ্ববর্তী ৫টি আরব দেশে।
বুধবার পারস্য উপসাগরের তলদেশে থাকা ইন্টারনেট কেবল ও ক্লাউড অবকাঠামোর একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে তাসনিম। বার্তা সংস্থাটি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও মুখপাত্রের কাজ করে থাকে।
এ পথ দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সৌদি আরবে ইন্টারনেট সংযোগের মূল কেবলগুলো গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে তাসনিম। এতে যুক্তি দেওয়া হয়, পারস্য উপসাগরের দক্ষিণের দেশগুলো ইন্টারনেটের জন্য হরমুজের জন্য অনেক বেশি বেশি নির্ভরশীল।
বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, মার্কিন মিত্র আরব দেশগুলোকে হুমকি দেওয়ার জন্যই এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থাটি। এটি মূলত ইঙ্গিত দেয়, এখন সাবমেরিন কেবল ও আঞ্চলিক ডেটা সেন্টারগুলোও লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত হয়েছে তেহরানের।
তাসনিম এটি এমন সময় প্রকাশ করল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ডিজিটাল ও ভার্চুয়াল ব্যবস্থার ওপর হামলা করছে। এর জবাবে প্রচ্ছন্ন হুমকি ছিল এটি।
অন্যদিকে, আরব আমিরাত ও বাহরাইনে আমাজন ওয়েব সার্ভিসের স্থাপনায় ড্রোন হামলা করেছে ইরান। এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক ক্লাউড অবকাঠামোর নিরাপত্তা ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আরব আমিরাত এবং বাহরাইনে অবস্থিত ক্লাউড ও ডেটা সেন্টার অবকাঠামোর দিকে ইঙ্গিত করে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে যে, এসব স্থাপনায় বিপর্যয় ঘটলে তার অর্থনৈতিক ও যোগাযোগগত প্রভাব হবে ভয়াবহ।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, তাসনিমের প্রতিবেদনটি সাধারণ কোনো কারিগরি তথ্য নয়। বরং এটি ওই অঞ্চলের মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ল্যান্ডিং স্টেশন এবং ডেটা সেন্টারগুলোকে হামলার হুমকি। এটিকে কৌশলগত চাপের আংশ।



