লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় সাংবাদিকসহ নিহত ৫

ইসরায়েলি হামলায় নিহত সাংবাদিক আমাল খলিল।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় এক সাংবাদিকসহ নিহত হয়েছেন পাঁচজন। বুধবার আত-তাইরি গ্রামে হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আত-তাইরি গ্রামে ফটোগ্রাফার জেইনাব ফারাজকে নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের কাজ করছিলেন সাংবাদিক আমাল খলিল। আচমকা তাদের সামনের গাড়িতে হামলা চালায় আইডিএফ। এতে নিহত হন গাড়িতে থাকা দুজন। ফারাজ ও খলিল দৌড়ে আশ্রয় নেন পাশের একটি বাড়িতে। পরে সেই বাড়িতেও বিমান হামলা চালায় আইডিএফ।
লেবাননের সাংবাদিক ইউনিয়নের পরিচালক এলসি মুফাররেজ জানান, ফারাজকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছেন উদ্ধারকারীরা। আঘাত লেগেছে তার মাথায়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, এক ঊর্ধ্বতন লেবানিজ সামরিক কর্মকর্তা এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মতে, খলিলকে উদ্ধার করতে এলে ইসরায়েলর বাধার মুখে পড়েন উদ্ধারকারীরা। তাদের সামনে চালানো হয় সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি। পরে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করে সাংবাদিক খলিলের মরদেহ।
মুফাররেজ জানান, হামলার প্রায় চার ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা।
সাংবাদিককে লক্ষ্য করে হামলা ও উদ্ধারকাজে বাধা দেওয়াকে যুদ্ধাপরাধ বলে উল্লেখ করেছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে এই অপরাধগুলোর বিচার দিতে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখবে না লেবানন।
আমাল খলিলের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার আগে এই হামলা নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে আইডিএফ। তারা জানায়, তাদের হামলায় দুই সাংবাদিক আহত হওয়ার খবর পেয়েছে তারা। তবে উদ্ধারকাজে বাধা দেওয়া অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইডিএফ।
সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায় না ইসরায়েল— আইডিএফ এমন দাবি করলেও তাদের হামলায় গাজা ও লেবাননে বহু সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। গত মার্চে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দক্ষিণ লেবাননে নিহত হয়েছিলেন তিন সাংবাদিক।



