এবার নতুন সমুদ্রসীমা ঘোষণা ইরানের
- ২ হাজার কিলোমিটার উপকূলরেখা নিয়ন্ত্রণে রাখবে তেহরান
- মোজতবা খামেনির নির্দেশে এ পদক্ষেপ
- ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত

সংগৃহীত ছবি
জাতিসংঘের আগের সমুদ্রসীমা মানবে না ইরান। গত ২৭ এপ্রিল জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধির ঘোষণা এবার বাস্তবায়ন করল তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভ্যলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের উপকূলের জন্য ঘোষণা করেছে নতুন নিয়ম।
আইআরজিসি নৌবাহিনীর ভাষ্য, তারা এখন থেকে এসব এলাকায় ইরানের প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার (১ হাজার ২৪৩ মাইল) উপকূলরেখা নিয়ন্ত্রণে রাখবে। এ পদক্ষেপ সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নির্দেশে নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্র পরিচালিত প্রেস টিভি এ কথা জানায়। তবে এ বিষয়ে প্রকাশ করা হয়নি কোনো বিস্তারিত তথ্য।
আইআরজিসির মতে, ইরানের সম্মানিত জনগণের জন্য জীবিকা ও শক্তির উৎস এবং অঞ্চলটির জন্য নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির উৎস হয়ে উঠবে এ জলভাগ। হরমুজ প্রণালি নিয়ে এরই মধ্যে উত্তেজনা চলছে। কারণ, ইরানের বিরুদ্ধে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ কৌশলগত জলপথে জাহাজ চলাচল সীমিত করে রেখেছে তেহরান।
৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে আলোচনা হয়। কিন্তু হয়নি কোনো সমঝোতা। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের অনুরোধে নতুন সময়সীমা নির্ধারণ না করে একতরফাভাবে বাড়ান যুদ্ধবিরতি। ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র এ জলপথে ইরানি সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে নৌ অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে ২৭ এপ্রিল জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন মেনে চলতে আইনিভাবে বাধ্য নয় তেহরান। এদিন এক বিবৃতিতে তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাম্প্রতিক কঠোর নৌ পদক্ষেপের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন।
ইরাভানির ভাষ্য, ‘মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে উপকূলীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ নৌ চলাচলের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতেই তেহরান এ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’
ইরানের এই অনড় অবস্থানকে বর্তমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পারস্য উপসাগরের অন্য প্রান্তে রয়েছে কুয়েত,আরব আমিরাত, ওমান।
ইরানের সীমানা
মোট ৫ হাজার ৮৯৪ কিলোমিটার স্থলসীমা নিয়ে গঠিত ইরান। সাতটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করা এ সীমানা। দেশগুলো হলো আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, ইরাক, পাকিস্তান, তুরস্ক ও তুর্কমেনিস্তান। এ ছাড়া পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও কাস্পিয়ান সাগর বরাবর ২ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার উপকূলরেখা রয়েছে। এ সীমানাগুলো বিংশ শতকে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে।
ইরানের আয়তন ১৬ লাখ ৪৮ হাজার ১৯৫ বর্গকিলোমিটার। দেশটি মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং ককেশাস অঞ্চলের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক সেতুবন্ধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। স্থলসীমাগুলোয় বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি দেখা যায়। ইরানের উত্তর-পশ্চিমে তুরস্ক ও আর্মেনিয়ার সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চল থেকে শুরু করে পূর্ব সীমান্তে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সঙ্গে শুষ্ক মরুভূমি পর্যন্ত।
অন্যদিকে, সামুদ্রিক সীমানা পারস্য উপসাগরের বিতর্কিত জলসীমায় বিস্তৃত। সেখানে ইরান কয়েকটি দ্বীপের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে চলমান সীমানা নির্ধারণের প্রেক্ষাপটে। ইরানের কৌশলগত সীমানা বিন্যাস হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ সহজতর করেছে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে প্রভাব ফেলে।
যদিও অতীতের দ্বন্দ্ব, যেমন ১৯৭৫ সালের আলজিয়ার্স চুক্তির মাধ্যমে ইরাকের সঙ্গে শাত আল-আরব বিরোধের নিষ্পত্তি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সীমানার ভূমিকা নির্দেশ করে।
তথ্যসূত্র : আনাদোলু



