গাজায় ২০ বছর পর পৌর নির্বাচন, নেই হামাস

ভোটারদের কাছে লিফলেট বিলি করছেন একজন প্রার্থীর সমর্থকরা। ছবি : সংগৃহীত
গাজায় প্রায় দুই দশক পর পৌরসভা নির্বাচন। হচ্ছে দেইর আল-বালাহ শহরে। সবশেষ ২০০৬ সালে হয়েছিল পৌর নির্বাচন। যদিও শাসক দল হামাস অংশ নিচ্ছে না তাতে। নেই তাদের কোনো প্রার্থীও।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানাচ্ছে, আগামী শনিবার পৌর নির্বাচনে সীমিত সংখ্যক ফিলিস্তিনি ভোট দেবেন। দেইর আল-বালাহ গাজার অল্প কয়েকটি শহরের মধ্যে একটি, যেখানে বর্তমানে ইসরায়েলি স্থলবাহিনীর দখল নেই।
উপত্যকার শাসক দল হামাস নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন জানায়নি। যদিও হামাসপন্থি কিছু প্রার্থী নির্বাচন করছেন। ২০ বছর আগের শেষ সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়েছিল হামাস।
হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর তিন দফা যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও হামলা বন্ধ হয়নি উপত্যকায়। এখনও আছে বোমা আতঙ্ক। তবে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় অন্যরকম আনন্দের অনুভূতি নিয়ে এসেছে ভোট। এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
৩৪ বছর বয়সী আদহাম আল-বার্দিনি বলছেন, ‘এই প্রথম আমার জীবনে এমন অনুভূতি হবে। জন্ম থেকেই আমি নির্বাচনের কথা শুনে আসছি, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে কোনো নির্বাচন হয় না। কিন্তু এবার আমরা ভোট দিতে আগ্রহী, যাতে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবতা বদলে দিতে পারি।’
২৫ বছর বয়সী আব্দুল-রহমান আল-শাদের ভাষ্য, ‘তরুণদের মধ্যে ভোট নিয়ে চাহিদা ও আগ্রহ অনেক। বিশেষ করে দুই বছরের যুদ্ধে আমরা যে ধ্বংসযজ্ঞ দেখেছি, এখন সবাই দেশের উন্নতি চায়।’
গত তিন বছর ধরে গাজা জুড়ে পৌরসভাগুলো অকার্যকর। সেখানে আছে পানি সংকট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সংকট। গাজাবাসী আশা করছে, নির্বাচনের পর হয়তো পরিবর্তন আসবে।



