‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ, ইরান যুদ্ধ কি সমাপ্তির পথে?

আমেরিকার হামলায় বিধ্বস্ত এক ভবনে ইরানে পতাকা। ছবি : রয়টার্স
ইরানের বিরুদ্ধে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান। ৪০ দিন পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সাময়িক বিরতি হয় সংঘাতের। এরপর কয়েক দফায় শান্তি আলোচনা হলেও আসেনি কোনো সমাধান। তবে, যুদ্ধের ইতি টানতে চলছে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের স্পষ্ট করেছেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর উদ্দেশ্যগুলো অর্জিত হওয়ায় তা শেষ হয়েছে। ওয়াশিংটন এখন বেছে নেবে ‘শান্তির পথ’।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করার।
তবে বুধবার রুবিওর বক্তব্যের সঙ্গে আপাতদৃষ্টিতে সাংঘর্ষিক একটি মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ইরান যদি চুক্তিমতো সবকিছু দিতে রাজি হয়, তাহলে এই তাণ্ডব শেষ হয়ে যাবে। অন্যথায়, বোমাবর্ষণ শুরু হবে এবং দুঃখজনকভাবে, তা আগের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রা ও তীব্রতায় হবে।’
এ বিষয়ে ইরান এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
অস্ট্রেলিয়ার ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশীয় রাজনীতির অধ্যাপক শাহরাম আকবরজাদেহ আলজাজিরার কাছে দাবি করেছেন, ট্রাম্প ঠিক কী কারণে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করেছেন তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন হলেও যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধবিরোধী জনমতের চাপেই এসেছে এই স্থগিতাদেশ। একই সঙ্গে ট্রাম্প হয়তো এই যুদ্ধ নিয়ে হারাচ্ছেন ধৈর্য।
তার ভাষ্য, প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করার ফলে কূটনীতি গতি পাবে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে নিয়ে আসবে একটি চুক্তির কাছাকাছি। যেটিকে আবার ট্রাম্প আখ্যা দেবেন জয় হিসেবে।
আকবরজাদেহ মনে করেন, প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত কাজ করতে পারে ‘যুদ্ধ শেষের সূচনা’ হিসেবে।
তার মত, ইরানিরাও চায় এ যুদ্ধের অবসান। ট্রাম্প যদি শান্তির কূটনীতির জন্য সবুজসংকেত দেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী তেহরানের ওপর হামলা পুনরায় শুরু করার আশঙ্কা খুবই কম।
তবে আকবরজাদেহ এও মনে করেন, এ রকম পরিস্থিতি হয়েছে আগেও। আগের সুযোগগুলো নষ্ট হয়েছিল, কারণ ইসরায়েল জোর দিয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্র পেতে পারে আরও ভালো চুক্তি। অথবা ট্রাম্প পরিস্থিতি ভুল বুঝেছিলেন এবং আশা করেছিলেন সামরিক বিকল্প তাকে এনে দেবে আরও বেশি ছাড়।
এরপর কী হবে, এর পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন বলে মনে করেন এ বিশ্লেষক। তবে কোনো পক্ষই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ফিরতে চায় বলে মনে করেন না তিনি। তাই উভয় পক্ষই কূটনৈতিক সমাধানের পথকে অগ্রাধিকার দেবে বলে মত তার।
আকবরজাদেহ জোর দিয়ে বলেছেন, দুপক্ষের কেউই পরিচিত হতে চায় না পরাজিত হিসেবে। তারা মনে করে, নিজ নিজ দেশের জনগণের কাছে তাদের ভাবমূর্তি রক্ষা করা প্রয়োজন। এটি শান্তি আলোচনা এবং একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোকে করে তুলতে পারে জটিল।
আলজাজিরা থেকে অনূদিত



