তেল স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড
আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম সংযুক্ত আরব আমিরাতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে তেহরান। আজ সোমবার রাতে হামলাগুলো চালানো হয়েছে।
ইরানের ছোড়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ঠেকানোর দাবি করেছে আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে ড্রোন হামলায় ফুজাইরাহ প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান থেকে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আমিরাতের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। বাকি একটি ক্ষেপণাস্ত্র সমুদ্রে গিয়ে পড়ে।
এ ছাড়া বেশ কিছু ড্রোন আকাশেই রুখে দেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেলেও সেগুলো ছিল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করার শব্দ। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এমনটাই দাবি করেছে।
আমিরাতের ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি নাগরিকদের উদ্দেশে পর পর দুটি জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। প্রথম সতর্কবার্তার প্রায় দুই ঘণ্টা পর দ্বিতীয় সতর্কতাটি পাঠানো হয়। এতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানো গেলেও ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা করা যায়নি ফুজাইরাহ প্রদেশের একটি শিল্প এলাকা। ফুজাইরাহ মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইরান থেকে আসা একটি ড্রোনের আঘাতে সেখানকার পেট্রোলিয়াম ইন্ডাস্ট্রিয়াল সাইটে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, এই হামলাকে তার সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই ঘণ্টা ব্যবধানে পর পর দুটি বড় ধরনের সতর্কতা জারি করার ঘটনায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে দেশটিতে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং নাগরিকদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
এই অতর্কিত হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নতুন করে আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি চলাকালে এই হামলা ওই অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।



