নেতৃত্বের কোন্দল নিয়ে ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান ইরানের

১৭ এপ্রিল তেহরানের রাস্তায় রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজিত এক সমাবেশে নারীরা ইরানের পতাকা এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির একটি প্রতিকৃতি ধরে আছেন। ছবি : এপি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহ ধরে দাবি করে আসছেন, তেহরানে ‘মধ্যপন্থী’ ও ‘কট্টরপন্থীদের’ মধ্যে ‘ভয়াবহ’ অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে। তাই ইরান সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো নেতা নির্বাচন করতে পারছেনা। পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় ইরানের অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে এসব অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখান করে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবার জোর দিয়ে বলেছেন, তাদের দেশ ঐক্যবদ্ধ এবং তেহরানের নেতৃত্ব নিয়ে কোনো বিভেদ নেই।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ সকলেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ একটি বিবৃতি পোস্ট করেছে সামাজিকমাধ্যম এক্সে।
দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক্স পোস্টে দাবি করেছে, ‘ইরানে কোনো চরমপন্থী বা মধ্যপন্থী নেই। আমরা সবাই ইরানি ও বিপ্লবী। সর্বোচ্চ নেতার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য নিয়ে পুরো জাতি ঐক্যেবদ্ধ। আগ্রাসন চালানো অপরাধীকে ক্ষমা চাওয়াবো।
একই পোস্ট নিজেদের এক্স প্রোফাইলে শেয়ার করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ। ইরানের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ রেজা আরেফও বিবৃতিটি শেয়ার করেছেন এবং এর সঙ্গে অতিরিক্ত একটি ইংরেজিতে অংশ যোগ করেছেন।
আরেফ লিখেছেন, ইরান বিভেদের দেশ নয়, বরং ঐক্যের দুর্গ। আমাদের রাজনৈতিক বৈচিত্র্যই আমাদের গণতন্ত্র, তবুও বিপদের সময়ে আমরা এক পতাকার নিচে একতাবদ্ধ। আমাদের মাটি ও মর্যাদা রক্ষায় আমরা সব পরিচয়কে অতিক্রম করি। আমরা এক আত্মা, এক জাতি।
ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন বলে আসছেন ইরানি নেতাদের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধ রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ইরানিরা তাদের নেতা কে তা নির্ধারণ করতে খুব কঠিন সময় পার করছে। এমনকি তিনি যুদ্ধবিরতির আলোচনায় অচলাবস্থার জন্য এ বিষয়টিকে দায়ী করেছেন। এ ছাড়া ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের বিরোধের অভিযোগ তুলেন তিনি।
তবে তেহরান গত কয়েকদিন ধরে জোর দিয়ে বলছে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের কারণে পাকিস্তানের শান্তি আলোচনাটি হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার আরাঘচি ট্রাম্পের অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে জোর দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কোনো বিরোধে নেই।



