ইরানের হুঁশিয়ারি
মার্কিন অবরোধ বহাল থাকলে খুলবে না হরমুজ

ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ। ফাইল ছবি
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য চলছে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি। তবে, ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ রয়েছে অব্যাহত। চলতি সপ্তাহের শেষদিকে স্থায়ী চুক্তির জন্য দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসতে পারে দুপক্ষ। এমনটাই জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এরইমধ্যে গতকাল রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে তেহরানকে দিয়েছেন হুমকি। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, তেহরানের সঙ্গে লেনদেন ১০০% সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোতে বহাল থাকবে মার্কিন নৌ অবরোধ।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী জয়ী হয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।
জবাবে, যুক্তরাষ্ট্রের জয় নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যকে মিথ্যা আখ্যা দিয়েছেন ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ।
তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ অব্যাহত রাখলে খোলা থাকবে না হরমুজ প্রণালি।
এর আগে, বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয় তেহরান। কিন্তু বিভিন্ন শর্ত ও নিয়মের জালে পরিস্থিতি ধারণ করেছে জটিল আকার।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। ইরান যুদ্ধের পুরোটা সময় কার্যত অবরুদ্ধ ছিলো এটি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ চেয়ে প্রণালিটি অবরুদ্ধ করে রাখে তেহরান।
অবশেষে ওয়াশিংটনের সহায়তায় বৃহস্পতিবার রাতে তেল আবিব ও বৈরুত সম্মত হয় ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে। পরে, হরমুজ খুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় ইরানি কর্তৃপক্ষ।
তবে হরমুজ দিয়ে যেতে চাইলে জাহাজগুলোকে প্রথমে ইরানের সঙ্গে করতে হবে সমন্বয়। পরে তেহরানের নির্দেশিত পথেই পাড়ি দিতে হবে প্রণালি।
সম্প্রতি হরমুজ দিয়ে যাওয়ার নতুন পথের ছবি প্রকাশ করেছে ইরানের বিপ্লবি গার্ডস (আইআরজিসি)। যা বেশ কাছাকাছি দিয়ে গেছে ইরানের উপকূলরেখার।
হরমুজকে চাপ প্রয়োগের একটি মাধ্যম এবং দর কষাকষির কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সামরিক সূত্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে, হরমুজ আপাতত বেসরকারি ও সামরিক জাহাজের জন্য থাকবে না উন্মুক্ত।
এর আগে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ দিনের সংঘাত থামায় ইসলামাবাদ। গত শনিবার প্রথমদফায় আলোচনা হলে আসেনি কোনো সমাধান।



