হিজবুল্লাহর বিবৃতি
যুদ্ধবিরতি লেবাননের জন্য অপমান

হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম। ফাইল ছবি
ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে কার্যকর হয়েছে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি। দেশটির ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এ যুদ্ধবিরতিকে লেবাননের জন্য অপমান বলে অভিহিত করেছে।
হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম লেবাননের আল-মানার টিভিতে দেওয়া এক বিবৃতি করতেছেন এ মন্তব্য।
তার ভাষ্য, তার দলকে একতরফা যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে বাধ্য করা উচিত নয়। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে হওয়া ১৫ মাসের যুদ্ধবিরতির সময়কার পরিস্থিতি।
কাসেম দাবি করেন, হিজবুল্লাহ সে পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে রাজি নয়; যখন যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন করে ইসরায়েল ইচ্ছামতো গুলি চালাত, কিন্তু হিজবুল্লাহ তা করত না।
তার মত, এসব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কোনো ভাল ফল দেয় না।
২৮ মার্চ ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পক্ষ নিয়ে মার্চের শুরুতে ইসরায়েলে হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। জবাবে রাজধানী বৈরুতসহ লেবাননে নির্বাচার হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী (আইডিএফ)।
পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় তেহরান ও ওয়াশিংটন। তবে, যুদ্ধবিরতি না মেনে লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখে আইডিএফ। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারান প্রায় ২ হাজারের বেশি লেবানিজ।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্থায়ী শান্তিচুক্তির ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে অবশ্যই লেবাননে হামলা থামানোর শর্ত দেয় ইরান। একপর্যায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে তেল আবিব ও বৈরুত।
যুদ্ধবিরতির দুদিন পরেও হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত লেবানিজ ফিরছেন নিজ ঘরে। আজ সকালে দক্ষিণ লেবাননের দিকে যাওয়ার পথ যানজট মানুষ ও গাড়ির চাপে তৈরি হয় যানজট। গতকাল বিকেল ও সন্ধ্যায় উত্তর অংশের রাস্তা ও বাজারে বেশ ব্যস্ততা দেখা গেছে।
স্থানীয় একজনের ভাষ্য, এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখনও রয়েছে এক ধরনের আশঙ্কা ও অবিশ্বাস। তাই অনেকে দক্ষিণে গেলেও হামলার ভয়ে রাত কাটানোর জন্য পরে বৈরুতসহ ফিরে আসেন বড় শহরগুলোতে।



