যুদ্ধে ফুলেফেঁপে উঠছে বড় তেল কোম্পানিগুলো

সংগৃহীত ছবি
ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের অন্যতম লাভবান বড় তেল কোম্পানিগুলো। যুদ্ধের প্রথম মাসে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ তেল ও গ্যাস কোম্পানি প্রতি ঘণ্টায় বাড়তি মুনাফা লুটেছে ৩ কোটি ডলারের বেশি।
এ তথ্য উঠে এসেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে।
এই বিপুল লাভের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী সৌদি আরামকো, গাজপ্রম ও এক্সনমবিল। অর্থাৎ, জলবায়ু উদ্যোগের বিরোধিতা করা প্রতিষ্ঠানগুলোই এখন উঠছে ফুলেফেঁপে।
যুদ্ধের কারণে গত মার্চে জ্বালানি তেলের দাম ছাড়িয়ে যায় ১০০ ডলার। যুদ্ধবিরতি হওয়ার আগ পর্যন্ত বেশিরভাগ সময় তেলের দাম ১০০ ডলারের বেশি ছিল। প্রতিবেদন লেখার সময় তেলের দাম ছিল ৯৯ ডলার।
এতে মার্চে কোম্পানিগুলো বাড়তি মুনাফা করে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি (২৩ বিলিয়ন) ডলার। যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরতে তেল-গ্যাসের সরবরাহব্যবস্থার লাগবে আরও কয়েক মাস।
গবেষণা সংস্থা রিস্ট্যাড এনার্জির তথ্য ব্যবহার করে গ্লোবাল উইটনেসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দাম ১০০ ডলারের ঘরে থাকলে বছর শেষে কোম্পানিগুলোর পকেটে ঢুকবে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি (২৩৪ বিলিয়ন) ডলার।
যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বিজয়ী সৌদি আরামকো। তেলের দাম ১০০ ডলার থাকলে ২০২৬ সালে তারা যুদ্ধ থেকেই ২ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার মুনাফা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বছর শেষে রাশিয়ার তিনটি কোম্পানি—গাজপ্রম, রোসনেফ্ট ও লুকওয়েল—প্রায় ২ হাজার ৩৯০ কোটি ডলার মুনাফা করতে পারে।
যুদ্ধকালীন মুনাফা লুটতে পিছিয়ে নেই পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলোও। তেলের দাম ১০০ ডলার থাকলে মার্কিন কোম্পানি এক্সনমবিল ২০২৬ সালে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার আয় করবে। ব্রিটিশ কোম্পানি শেলের ঘরে যাবে ৬৮০ কোটি ডলার। যুদ্ধ শুরুর পর এই কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দামও লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। এক মাসে এক্সনমবিলের বাজারমূল্য ১১ হাজার ৮০০ কোটি এবং শেলের ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বেড়েছে।
আরেক প্রতিষ্ঠান শেভরন এই যুদ্ধ থেকে ৯২০ কোটি ডলার বাড়তি মুনাফা করার পথে রয়েছে। পিছিয়ে নেই কোম্পানির প্রধান নির্বাহী মাইক ওয়ার্থও। গত জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে তিনি ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলারের শেয়ার বিক্রি করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন।
কোম্পানিগুলোর এই বাড়তি লাভ মূলত সাধারণ মানুষের পকেট কেটেই আসছে। গাড়ি চালাতে বা ঘরে আলো জ্বালাতে এখন তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
তেল-গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে গত মার্চের মাঝামাঝি সময়ে জাতিসংঘের জলবায়ু প্রধান সাইমন স্টিল সতর্ক করে বলেছিলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব কেড়ে নিচ্ছে। এর জায়গা নিচ্ছে দাসত্ব ও বাড়তি খরচ।
নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেছেন, সূর্যের আলো কোনো ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথের ওপর নির্ভর করে না।



