মধ্যপ্রাচ্য সংকট
পাকিস্তানে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল ৫৫ শতাংশ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানেও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হঠাৎ করেই বড় পরিসরে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে পাকিস্তান সরকার।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক জানান, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি মূল্য বাড়ায় দেশটির সরকার জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রোলের দাম ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়িয়ে লিটারপ্রতি ৪৫৮ দশমিক ৪০ রুপি বা প্রায় ১ দশমিক ৬৪ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। যা শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে।
শ্রমজীবী মানুষ ও গণপরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিজেলের দাম ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়িয়ে লিটারপ্রতি ৫২০ দশমিক ৩৫ রুপি বা প্রায় ১ দশমিক ৮৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী পারভেজ মালিক বলেছেন, সরকার বাজেটের সীমাবদ্ধতার মধ্যে জনগণকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ না থাকায় আমাদের এই মূল্যবৃদ্ধি করতে বাধ্য হতে হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র অস্থিরতা তৈরি করেছে। ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহ পরিবাহিত হয়, যার বড় অংশই এশিয়ার দেশগুলোর জন্য। এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেলের সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
তেল ও গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল পাকিস্তান। যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যেই গত ৬ মার্চ প্রথম দফায় ২০ শতাংশ জ্বালানির দাম বাড়িয়েছিল দেশটি।
বর্তমান সংকট মোকাবিলায় দেশটির সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য নানা কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি অফিসে চারদিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা, স্কুলের ছুটি বাড়ানো এবং কিছু ক্লাস অনলাইনে স্থানান্তর করা।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৪ কোটি জনসংখ্যার পাকিস্তানে প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। ফলে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনে আরও চাপ সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুধু পাকিস্তানই নয়, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ জ্বালানির দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। একই দিনে বাংলাদেশে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি এবং কিছু যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজির দাম প্রায় ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে বলেছে, পাকিস্তানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতিগুলো শুধু জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপই নয়, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নের কারণেও সংকটে পড়ছে।
আইএমএফ জানায়, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং লাতিন আমেরিকার অনেক দেশ উচ্চ খাদ্য ও সারমূল্য এবং কঠোর আর্থিক পরিস্থিতির অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এর ঢেউ ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতি জুড়ে। যার সরাসরি চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে।
সূত্র: এনডিটিভি

